phone-addiction

মোবাইল আসক্তি রোধে করণীয় (সেরা কৌশল)

প্রয়োজনের অতিরিক্ত মোবাইল ফোনকে ব্যবহার করা হলে তাকে মোবাইল আসক্তি এর মধ্যে গণ্য করা হতে পারে।

এ জন্য মোবাইল ফোন কেবল মাত্র প্রয়োজনে ব্যবহার করুন এবং এ বিষয়ে সকলকে সাবধান করুন।

আর এই মোবাইল আসক্তির কারণে মানুষের বিভিন্ন দিকে ঘাটতি বা সংকট দেখা দেয়। যা মোটেও একজন মানুষের ক্ষেত্রে সুবিধাজনক নয়।

সেজন্য মোবাইল অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। সুস্থ্য সাভাবিক জীবন যাপন করুন ও সময়কে মল্যায়ন করতে শিখুন।

 

মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে মোবাইল আসক্তি-

মোবাইল আসক্তি হওয়ার পিছনে মানুষের প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত স্মার্টফোনের ব্যবহার বেশি দায়ী। এর ফলে মানুষ নানা-মুখি সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে বলে গবেষকরা মনে করেন।

আর এই স্মার্টফোনের আসক্তির কারনে শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি সাধিত হতে পারে।

যেমন, মেজাজ খারাপ, ঘুমের অভাব, হতাশায় ভোগা, মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়ে থাকে। এই তথ্য প্রযুক্তির যুগে যেন স্মার্টফোন ছাড়া চলতেই চায়না কেউ!

ম্যসেজিং করা ছাড়াও অহেতুক কাজে ব্যবহার করে সময় নষ্ট করছে যা একজন মোবাইল ব্যবহারকারীর মানসিক সমস্যার কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে।

ব্রিটেনে অনেক তরুণ তরুণী মোবাইল হাতে না পাওয়ায় তারা বিচলিত ও আতঙ্কিত হয়ে থাকে।

এতে বোঝা যায় তারা এতোটাই আসক্ত ছিল যে তাদের হাতে সবসময় ফোন না পাওয়ায় তাদের এ ধরনের আচরণ লক্ষ্য করা যায়।

এ ধরনের আসক্তির প্রভাবের জন্য গুরুতরভাবে মানসিক সাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।

সুতরাং তারা যে সময় ব্যয় করছে ফোনে সেখান থেকে এখন আর বের হয়ে আসতে পারছে না।

আবার শিশু বা তরুণদের মোবাইল ব্যবহার নিয়ে সকলকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে অবিভাবকদের জোড়ালো নজর দিতে হবে।

যাতে করে তারা বেশি সময় ফোনে ব্যয় না করতে পারে। এক্ষেত্রে বিবিসি জানান যে, ‘‘এর প্রভার আবার সবসময় এক রকম থাকে না’’।

স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার কাউকে অনেক খুঁশি করতে পারে আবার বেশিরভাগই ক্ষতির মধ্যে পড়ে যায়।

এজন্য এমন ভাবে ব্যবহার করুন বা সতর্ক হন যাতে করে আপনার বা আপনার কোন প্রিয়জনের সাস্থ্য মানসিকতার উপর প্রভাব না পড়ে।

 

মোবাইল আসক্তির কারণ-

বর্তমানে কিশোর ও শিশুদের মোবাইল আসক্তি দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। কারন এখন তাদের হাতে অনেক দামী অ্যান্ড্রয়েড ফোন দেখতে পাওয়া যায়।

যার দ্বারা তারা বিভিন্ন নেট গেইম ও ইন্টারনেটে ভিডিও দেখায় সময় পার করে দিচ্ছে। আর এটিই হচ্ছে তাদের এখনকার কিশোর ও শিশুদের ব্যস্ততা।

এখন কার ছেলে মেয়েরা প্রাথমিক স্কুল না পেরোতেই ফোনের দিকে প্রভাবিত হচ্ছে। এছাড়াও গ্রাম বাংলায় দেখা যায় অনেকে ‘টিকটক’ বা ‘লাইকি’ করা নিয়ে সারাদিন ব্যস্ত সময় কাটায়।

[যদিও এসব সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের ভালর জন্য তৈরী করা তথাপি এর অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের ক্ষতি সাধন করছে]

এমন মোবাইল আসক্তি এর কারণে তারা অনেক সমাজ বহির্ভুত কাজে লিপ্ত হতে পারে।

পরিবারের অসচেতনতার কারণেও তারা এতো মোবাইল এর দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রয়াস পাচ্ছে।

নির্ধারিত বয়স না হয়ে উঠতেই তাদের হাতে ফোন দেওয়ায় তাদের দিন দিন এর প্রতি আসক্তি বেড়ে চলেছে।

পাড়া মহল্লায় তাদের এক এক করে দল বা গ্রুপ বেড়ে উঠছে।

সেক্ষেত্রে মোবাইলে এমবি বা টাকা না উঠাতে পারলে বিভিন্ন অপকর্ম করতে পারে।

আর একটি গবেষণায় দেখা হয়েছে ,করোনাকালিন মোবাইল আসক্তি বেড়ে ৬৭ টি শতাংশ ছেড়েছে।

সেই সময় ৭০ শতাংশ শিশুরা খেলাধুলার তেমন সুযোগ না পাওয়ায় অনেকেই শারীরিক ও মানসিক ভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছিল।

 

মোবাইল আসক্তির লক্ষণ-

  • কাউকে সঙ্গ দিতে ফোন চার্জে দিয়ে পাশে বসে থাকা।
  • খাবার বা পড়ার টেবিলে মোবাইল চালানো।
  • ঘুম না হওয়া ও আচারনগত পরিবর্তন।
  • পড়াশোনাই অবহেলা ও সামাজিক দায়িত্বহীন।
  • মাথা ও চোখ ব্যথা হওয়া।
  • শারীরিক ক্ষমতা কম ও মানসিক অস্থিরতা দেখা যায়।
  • কোন বিষয়ে মনোযোগ লাগাতে না পাড়া।
  • সমাজবিরোধী ব্যক্তিত্বের বিকাশ।
  • কোন সামাজিক পরিবেশে কথা এড়ানোর জন্য ফোনে ব্যস্ত থাকা।
  • দৃষ্টি সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দেয় (ইত্যাদি)

 

মোবাইল আসক্তির কুফল-

মা-বাবা বা বড়দের কথা শুনতে চায়না এতে পারিবারিক মূল্যবোধ নষ্ট হয়ে যায়। এরপর মোবাইলে অতিরিক্ত সেলফি তোলা যা একটি মানসিক রোগের সৃষ্টি করে থাকে।

ফোন ব্যবহারের কারনে সব থেকে বেশি সমস্যা হয়ে থাকে ঘুমের। মাথা, গলার বা ব্রেনের টিউমারের কারণ হতে পারে মোবাইল ফোন।

এছাড়া স্মৃতি ও হার্টের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়াও মেরুদন্ড ভাজ হয়ে যেতে পারে।

মানসিক চাপের কারণ হয়ে দ্বাড়ায় মোবাইল আসক্তি। এটি শিশুদের সাভাবিক বিকাশে বাধা দেয় ও ধের্য্যসহ মনোযোগ কমিয়ে দেয়।

এতে শিশুরা দিন দিন অ-সহিষ্ণ্যু ও সামাজিক গুনাবলির বিকাশে বাধা পেয়ে থাকে যা মোটেও একজন শিশুর ক্ষেত্রে কল্যাণকর নয়।

স্নায়ুবিক সমস্যার পিছনেও দায়ী এই মোবাইল আসক্তি। কানে কম শোনা অস্থি সন্ধির ক্ষতিসহ চিন্তা শক্তি কমে যায়।

 

আরো দেখুন,

পিসির সাধারণ সমস্যার অভিনব সমাধান (গোপন ট্রিক্স)

 

মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়-

নোটিফেকেশন বন্ধ করে রাখতে হবে। কেননা, আমাদের সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে প্রতিনিয়ত নোটিফেকেশন আসতেই থাকে।

আর সেই গুলো দেখতে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা পার করে থাকি। বিশেষ করে তিনটি সময় মোবাইল ব্যবহার করা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।

যথা, খাওয়ার সময় চলার পথে ও বন্ধুদের সাথে আড্ডায় বা কোন আলোচনা সভায়।

সবসময় মোবাইল ব্যবহার না করে দিনে রাতের নির্দিষ্ট কোন সময়ে ব্যবহার করতে হবে। এতে মোবাইল আসক্তি রোধে অনেক কার্যকারী হয়ে থাকে।

মোবাইল বন্ধ রাখতে হবে। যখন আপনি ঘুমাতে পড়তে এবং কোন বৈঠকে থাকা অবস্থায় ফোন বন্ধ রাখা।

এতে আপনার কাজে মনোযোগ বাড়বে। গ্রুপ চ্যাট বন্ধ করে ফেলতে হবে। কারণ মোবাইল আসক্তির পিছনে এর কার্যকরীতা অনেক।

এজন্য কলেজের ,পাড়ার বা পরিবারের গ্রুপ গুলোতে আড্ডা দেওয়া কমিয়ে দিন।

 

মোবাইল আসক্তি মেধা বিকাশের অন্তরায়-

মোবাইল আসক্তি মেধা শক্তির বিনাশ ঘটাচ্ছে বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি দেখা যায়।

দীর্ঘদিন ধরে করোনা মহামারীতে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় এবং বাড়ির বাহিরে চলতে না পারায় তাদের খেলার বা সময় কাটানোর মাধ্যম ছিল বাবা মায়ের সেই ফোনটি।

যার কারণে আসক্তি আগের থেকে অনেক বেড়ে গিয়েছে। আর এভাবে দিন দিন মোবাইল আসক্তি বেড়ে চলেছে যার ফলে সকলের মেধা বিকাশে ঘাটতি ও নানা জটিল সমস্যায় ভুগছে।

ছেলে মেয়েরা এখন পড়াশোনায় বসতে চায়না কোন বিষয় যা আগে সহজেই বোঝতে পারতো তা এখন বোঝাতে সমস্যা হয়ে যাচ্ছে।

এই আসক্তির কারণে যে তাদের মাথা মস্তিষ্কের উপর চাপ পড়ায় তাদের মেধা দুর্বল হয়ে পরছে।

সুতরাং মেধা বিকাশের জন্য সবাইকে মোবাইল আসক্তি থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে।

 

স্মার্ট ফোনে আসক্তি পড়াশোনার ক্ষতি-

স্মার্টফোন ব্যবহারে ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশোনায় যে অসম্ভব রকমের ক্ষতি সাধিত হয় তা বলার অপেক্ষায় রাখে না। 

আতিরিক্ত ফোন চালানোর কারণে যে সময় তারা লেখাপড়া করতো সে সময় তারা ফোনে ব্যয় করে দিচ্ছে।

এতে তাদের মনোযোগ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে যার ফলে শিক্ষার ক্ষতি সাধীত হচ্ছে। পরীক্ষার ফলাফল ভালো হওয়ার জায়গায় খারাপটাই দেখা যায়।

এজন্য বেশিরভাগ সময় ফোনে না ব্যয় করে ঐ সময়টা পড়ায় বা শিক্ষা মূলক বিষয়ে ব্যয় করা উচিত যাতে করে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম ভালো হয়ে তাকে।

তো বন্ধুরা আজ এ পর্যন্তই। নিত্য টিউনের সাথেই থাকুন। দেখা হবে পরবর্তী কোন পোস্টে।  সে পর্যন্ত ভাল থাকুন, সুস্থ্য থাকুন। 

আল্লাহ্ হাফেজ।

 

 

 

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *