e-pass-port-system

ই-পাসপোর্ট কি? ই-পাসপোর্ট আবেদন করার নিয়ম খরচসহ

ইলেক্ট্রনিক্স পাসপোর্টকে আমরা সংক্ষেপে ই-পাসপোর্ট বলে থাকি। কি এই ই-পাসপোর্ট? কিভাবে আবেদন করতে হয়? আবেদন করতে কি কি লাগে? কোথায় করবো ই-পাসপোর্টের আবেদন?

যদি আপনি এসব প্রশ্নের যথার্থ উত্তর জানতে চান তাহলে পড়া থামাবেন না। চালিয়ে যান। সম্প্রতি বাংলাদেশ ই-পাসপোর্টের যুগে প্রবেশ করল।

ই-পাসপোর্টের আবেদন করবেন যেভাবে

এটি বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় ধরণের একটি অর্জন বলা চলে। কেননা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম এবং বিশ্বের ১২০ তম দেশ হিসেবে এই অর্জন।

 

E-passport in Bangla

 

তাহলে?

ই-পাসপোর্ট কি? (What is E-Passport?)

ATM কার্ড এবং চেক বইয়ের কথা শুনেছেন নিশ্চয়? এদের মধ্যে হালকা কিছু তফাৎ রয়েছে। চেক বই ছাড়া একজন গ্রাহক কখনই একা একা টাকা উঠাতে পারে না।

কেননা এক্ষেত্রে একাধিক কর্মকর্তার স্বাক্ষর এবং সীল এর প্রয়োজন পড়ে।

অন্যদিকে,

এটিএম কার্ডের মাধ্যমে টাকা উঠানোর জন্য কোন কর্মকর্তার স্বাক্ষর কিংবা সীল এর প্রয়োজন পড়বে না। গ্রাহক একা একাই টাকা উঠাতে পারেন।

এই কারণেই চেকের তুলনায় এটিএম কার্ড ভাল। টাকা উঠানোর একটি অনন্য আর ডিজিটাল উপায় হচ্ছে ATM কার্ড।

তার মানে E-Passport হল ইলেকট্রনিক্স পাসপোর্টের সংক্ষিপ্ত রূপ যার মাধ্যমে অনেক সহজ প্রক্রিয়ায় পাসপোর্ট ঝামেলা এড়ানো যায়।

 

এমআরপি থেকে ই পাসপোর্ট

 

ঠিক একইভাবে যদি ই-পাসপোর্টের কথা বলা যায় তবে মেশিন রিডেবল পাসপোর্টকে স্বরণ করতে পারেন।

ই-পাসপোর্টের বিষয়টা অনেকটা এটিএম কার্ডের মত। ই পাসপোর্ট হল এমন ধরণের পাসপোর্ট যার সাথে ইলেক্ট্রনিক মাইক্রো প্রোসেসর নামে একটি চিপ লাগানো থাকে।

এটিএম কার্ড হল এক বিশেষ ধরণের টাকা জমা এবং উত্তোলনের ডিজিটাল মাধ্যম। যে কোন এটিএম বুথ থেকে টাকা কার্ডের মাধ্যমে উঠানো যায়।

আবার এটিএম কার্ড থেকে আপনি টাকা বিকাশ এ নিতে পারেন।

বস্তুত এটি দেখে ঠিক বিশেষ কিছু বোঝার কোন উপায় নাই। আবার একে দেখতে অনেকটা MRP (Machine Readable Passport) পাসপোর্টের মতই লাগে।

 

অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর

 

আপনি নিশ্চয় মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের কথা শুনেছেন? সংযুক্ত চিপটি মেশিন রিডেবোল পাসপোর্ট এর সাথে ই-পাসপোর্টের তুলনা করে।

বায়োমেট্রিক তথ্য ধারণ করার কারণে এখানে পাসপোর্টধারীর যাবতীয় তথ্য সুরক্ষিত থাকে। এর মাঝে মাইক্রোপ্রসেসর এবং স্মার্ট কার্ডের প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়েছে।

মাইক্রোপ্রসেসর এক ধরণের ক্ষুদ্র প্রসেসর যা তথ্যগুলো প্রসেস করে।

আশা করি ই-পাসপোর্ট কি বুঝতে পারছেন।

ই-পাসপোর্টে নিম্নোাক্ত বায়োমেট্রিক info পাওয়া যায়।

  • পাসপোর্টধারীর নিজস্ব ৩ ধরণের ছবি
  • দুই হাতের সব আঙ্গুলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট
  • চোখের আইরিশ এর প্রিন্ট

আর সেই সাথে বায়োমেট্রিক সকল তথ্য ইলেক্ট্রনিক বর্ডার কন্ট্রোল সিস্টেমের মাধ্যমে যাচাই করা হয়ে থাকে। PKI এর মাধ্যমে চিপের সকল সংরক্ষিত ডাটা চেক করা হয়।

সমস্ত ডাটা ঠিক থাকলেই কেবল যাচাই সফল হয়ে থাকে। অন্যথায় ভুল তথ্য থাকলে সামনে এগিয়ে যাবার কোন সুযোগই থাকে না।

 

ই-পাসপোর্টধারীরা কি সুবিধা পাবেন?

ই-পাসপোর্টে কি সুবিধা? আমরা এখন তাই জানার চেষ্টা করবো। একজন ই-পাসপোর্টধারী ব্যক্তি নিচের সকল সুবিধার আওতায় চলে আসবেন।

  • ই-পাসপোর্টধারী ব্যক্তি বিশেষ ই-গেট সিস্টেম এর মাধ্যমে খুব দ্রুত ইমিগ্রেশন পার হবার সুবিধা পাবেন।
  • ই-গেটের নির্দিষ্ট জায়গায় দাড়ালে কার্ড হতে সকল তথ্য ফুটে উঠবে। ফলে একজন পাসপোর্টধারীকে লাইনের পর লাইন দাড়িয়ে বাড়তি কষ্ট করতে হবে না।
  • ই-গেট স্বয়ংক্রিয় ছবি তুলে নেবে এবং সেই সাথে পাসপোর্টধারীর চোখের আইরিশ এবং হাতের আঙ্গুলগুলো পরীক্ষা করে নেবে।
  • কোন প্রকার ত্রুটি খুঁজে না পেলে দ্রুত ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যাবে।
  • যদি কোন ত্রুটি খুঁজে পায় তবে পরবর্তী ধাপ পার হবার কোন সুযোগ দিবে না।

সর্বোপরি, ই-পাসপোর্ট পাসপোর্ট এর জগতে এক আমুল পরিবর্তন এনেছে। এটা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ধরণের পাওয়া।

যেহেতু এই প্রক্রিয়ায় একজন ব্যবহারকারীর কোন তথ্যের ভুল প্রবেশ করানো হলে তা বাতিল হয়ে যায় সেহেতু এটি অনেক সুন্দর এবং নির্ভেজাল একটি প্রক্রিয়া।

 

ই-পাসপোর্টের আবেদন করার প্রক্রিয়া

ই-পাসপোর্ট যেভাবে পাবেন, ভাই ই-পাসপোর্টের আবেদন করবো কিভাবে? এর জন্য প্রথমে নিচের লিংক হতে ই-পাসপোর্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।

 

www.epassport.gov.bd

 

এবার Apply Online থেকে প্রয়োজীয় সকল ডকুমেন্টস দিয়ে ফাইল সাবমিট করুন। অবশ্যই আপনার সকল তথ্য চেক করে তারপর সাবমিট করবেন।

অতপর জাতীয় পরিচয়পত্র  অর্থাৎ আপনার এনআইডি কার্ডসহ যাবতীয় ডকুমেন্টস নিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য দেবার জন্য পাসপোর্ট অফিসে চলে যান।

এবার আপনার পাসপোর্টটি প্রক্রিয়াধীন দেখাবে। আপনি একটু অপেক্ষা করেন। নির্দিষ্ট সময় অর্থাৎ আপনার পাসপোর্ট রেডি হয়ে গেলে আপনাকে সেটা গ্রহন করার জন্য অফিসে যেতে হবে।

 

ই-পাসপোর্ট করতে প্রয়োজনী সময়

একটি পাসপোর্ট সাধারণত ২১ দিন কিংবা ১মাসের মধ্যে গ্রাহকের হাতে এসে পৌঁছায়। তবে ইমার্জেন্সি পাসপোর্ট এ মাত্র ৭-৯ দিনেই একটি পাসপোর্ট পাওয়া যায়।

ই পাসপোর্ট কত দিনে পাওয়া যায়? ইলেকট্রনিক পাসপোর্টে আপনি নিম্নোক্ত তিন ধরণের ডেলিভারী সিস্টেম লক্ষ করে থাকবেন।

  • এক্সপ্রেস এর জন্য ১০ কর্মদিবস
  • রেগুলার এর জন্য ২১ কর্মদিবস এবং
  • সুপার এক্সপ্রেস এর জন্য ০২ কর্মদিবস (এক্ষেত্রে আপনার আগে থেকেই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স থাকতে হবে)

তবে বিভিন্ন কারণে সময় কিছুটা কমবেশি  হতে পারে। সেক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করুন।

 ই পাসপোর্ট করার ফি 

 

ই-পাসপোর্ট করতে প্রয়োজনী ফি

৫ বছর মেয়াদী ৪৮ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্ট ডেলিভারি ফি,

পাসপোর্টের ধরণ  প্রয়োজনীয় ফি
রেগুলার ৪ হাজার ২৫ টাকা
এক্সপ্রেস ৬ হাজার ৩২৫ টাকা
সুপার এক্সপ্রেস ৮,৬২৫ টাকা

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পাসপোর্ট অফিস যে মূল্য নির্ধারণ করবে তাই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে। 

 

১০ বছর মেয়াদী ৪৮ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্ট ডেলিভারি ফি,

পাসপোর্টের ধরণ  প্রয়োজনীয় ফি
রেগুলার ৫ হাজার ৭৫০ টাকা
এক্সপ্রেস ৮ হাজার ৫০ টাকা
সুপার এক্সপ্রেস ১০ হাজার ৩৫০ টাকা

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পাসপোর্ট অফিস যে মূল্য নির্ধারণ করবে তাই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে। 

 

ই পাসপোর্ট করার নিয়ম ও খরচ ২০২১

 

৫ বছর মেয়াদী ৬৪ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্ট ডেলিভারি ফি,

পাসপোর্টের ধরণ  প্রয়োজনীয় ফি
রেগুলার ৬ হাজার ৩২৫ টাকা
এক্সপ্রেস ৮ হাজার ৬২৫ টাকা
সুপার এক্সপ্রেস ১২ হাজার ৭৫ টাকা

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পাসপোর্ট অফিস যে মূল্য নির্ধারণ করবে তাই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে। 

 

১০ বছর মেয়াদী ৬৪ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্ট ডেলিভারি ফি,

পাসপোর্টের ধরণ  প্রয়োজনীয় ফি
রেগুলার ৮ হাজার ৫০ টাকা
এক্সপ্রেস ১০ হাজার ৩৫০ টাকা
সুপার এক্সপ্রেস ১৩ হাজার ৮০০ টাকা

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পাসপোর্ট অফিস যে মূল্য নির্ধারণ করবে তাই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে। 

 

ই-পাসপোর্ট করতে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

  • অনলাইন আবেদনের প্রিন্ট
  • এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি (ছবির ব্যাকগ্রাউন্ট অবশ্যই সাদা রাখবেন)
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
  • ব্যাংকের জমা রশিদ

আবেদনকারীর বয়স যদি ১৮ বছরের নিচে হয় তবে জন্য জন্ম সনদের পাশাপাশি তার পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংযুক্ত করে দিতে হবে। 

 

ই পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন

 

এ সকল তথ্য যাচাই করার জন্য অনেক সময় বাড়তি কিছু ডকুমেন্টস সংযোজন করতে হয়। 

যেমন, পুলিশের রিপোর্ট, এনওসি সনদ , শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে শেষ পরীক্ষার সনদ, চাকরিজীবীদের জন্য অফিস আইডি কার্ড।

সুতরাং পাসপোর্ট করার আগে প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্টস ঠিক করে নিন। যাচাই করে নিন আপনার সকল ডাটা ঠিক আছে কি না। 

কোন অংশে যদি ত্রুটি থাকে তবে তা সংশোধন করে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করুন। এছাড়া আপনি বিপাকে পড়তে পারেন।

 

ই-পাসপোর্টের আবেদন করবো কোথায়?

অনলাইন কানেকশন আছে এমন যে কোন কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে আপনি ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে পারেন।

আর যদি একটু বেশি চালাক হয়ে থাকেন তবে নিজের ফোনকে কাজে লাগিয়ে আবেদন করুন। আর যদি ঝামেল মনে হয় তবে যারা এ কাজে যুক্ত অবশ্যই বিস্বস্ত তাদের সাথে যোগাযোগ করেন।

এছাড়াও আপনি যদি দুশ্চিন্তা করেন তবে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করেন তারাই আপনাকে যাবতীয় কাজ করে দিবে।

সো, নো টেনশন ডু ফুর্তি!

 

ই-পাসপোর্ট কখন বাধ্যতামূলক?

সাধারণত আপনি যখন কোন চাকুরীর আবেদন এবং অন্যান্য আবেদন করেন যেগুলো বিদেশী বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সেক্ষেত্রে আপনাকে ই-পাসপোর্ট দাখিল করলেও চলে না করলেও চলবে। 

আপনি যখন বিদেশ পাড়ি গমনের চিন্তা করবেন তখন আপনাকে অবশ্য অবশ্যই একটি পাসপোর্ট করতে হবে। অন্যথায় বিদেশ আপনার জন্য নয়।

আপনি দেশের মানুষ দেশেই থাকেন!

 

আমার পাসপোর্ট নাই, আমি কি করবো?

পাসপোর্ট নাই সেক্ষেত্রে যদি দেশে থাকতে চান তাহলে হাবলুদার দোকানে গিয়ে চা খান, সময় পার করেন। আপনার পাসপোর্টের কোন দরকার নাই। 

আর যদি মনে করেন আপনি কখনও বিদেশগামী হবেন তবে চা খাওয়া বাদ দিন। পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে আবেদন দাখিল করেন।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট রেডি হয়ে যাবে। তখন গিয়ে নিয়ে আসুন। ব্যাস আপনার কাজ শেষ।

তার মানে হল যদি আপনার প্রয়োজন হয় একটি পাসপোর্টের তাহলে দেরী না করে দ্রুত আবেদন করে ফেলুন। 

 

মন্তব্য 

আশা করছি ই-পাসপোর্ট নিয়ে কোন বাড়তি ঝামেলা হবার কথা নয়। এরপরেও না বুঝে থাকলে কিংবা কোন অংশে সমস্যা মনে হলে আমাদের কমেন্ট করে জানান।

আমরা যধাসাধ্য চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ্।

তবে খেয়াল রাখবেন আবেদনের সময় প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্টস যেন আপনার কাছে থাকে। নিজে না পারলে কোন কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে আবেদন করুন।

নিজে নিজে আবেদন করলে সকল তথ্য যাচাই-বাছাই করে তারপর সাবমিট করুন।

 

আপনার জন্য রিকমেন্ডেড পোস্ট,

API কি? উদাহরণসহ এপিআই এর প্রয়োজনীয়তা

 

তো বন্ধুরা আশা করি ই-পাসপোর্টের বিষয়ে যাবতীয় প্রশ্নের অবসান ঘটেছে। আপনার আরো কিছু জানা থাকলে যা পোস্টে উল্লেখ হয় নাই দয়া করে কমেন্ট করে জানাবেন।

তাহলে আমরাও হয়তো আপনার মাঝে থাকা জ্ঞান সম্পর্কে জানতে পারবো।

আল্লাহ্ হাফেজ।

 

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *