এন্ড্রয়েড বনাম আইফোন

এন্ড্রয়েড বনাম আইফোন, কোনটি সেরা?

 

জনপ্রিয়তায় শীর্ষস্থান পাওয়া দুটি ফোন হচ্ছে আইফোন এবং এন্ড্রয়েড। স্মার্ট ফোনের জগতে বহুল আলোচিত একটি নাম হচ্ছে এন্ড্রয়েড। আজকে আমরা জানবো, এন্ড্রয়েড বনাম আইফোন, কোনটি সেরা?

 

অপারেটিং সিস্টেম কি?

ফোনের মধ্যে থাকা যাবতীয় অ্যাপ্লিকেশন কি উপায়ে চলবে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করে অপারেটিং সিস্টেম।

একটি স্মার্ট ফোন যে উপায়ে পরিচালিত হয় মূলত তাই হচ্ছে অপারেটিং সিস্টেম। এখানে একটা বিষয় খেয়াল রাখা দরকার; আমরা যে অপারেটিং সিস্টেমগুলো ব্যবহার করে থাকি সেগুলো আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্যের।

 

এন্ড্রয়েড আসলে কি?

আপনি নিশ্চয় অপারেটিং সিস্টেম নামটি শুনেছেন? এর খাঁটি বাংলা অর্থ করলে দাড়ায়, পরিচালনা পদ্ধতি। একটি ফোন কোন মাধ্যমে অপারেট হবে তা নির্ধারণ করে অপারেটিং সিস্টেম।

ঠিক আমরা যখন একটি কম্পিউটার ব্যবহার করি তখন সাধারণত উইনডোজ, ম্যাক কিংবা লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে থাকি। একইভাবে মোবাইল ফোনের জন্য কিছু অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে।

যেমন, অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস ইত্যাদি। তবে এন্ড্রয়েড ফোনের জন্য নির্ধারিত অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে এন্ড্রয়েড।

শুরুর দিকে এন্ড্রয়েডের ভার্সন ৪.২.২ যা কিটক্যাট হিসেবে পরিচিত, এরপর বাজারে আসলো এন্ড্রয়েড ভার্সন ৫.০০ যা ললিপপ হিসেবে স্বীকৃত।

এভাবে পর্যায়ক্রমে, ভার্সন ৬.০০ আসলো মার্শম্যালো নামে, তারপর ৭.০০ নট নামে এবং তারপর অরিও ৮.০০, পরবর্তীতে পাই, এবার গো-এডিশন ১০।

এভাবে নিত্য নতুন ফিচার নিয়ে এন্ড্রয়েডের বিভিন্ন ভার্সন বাজারে আসে। যখন নতুন কোন এন্ড্রয়েড ফোন বাজারে আসে তখন সর্বশেষ যে ভার্সনটি রিলিজ হয় তা সংযোজন করা হয়।

ফলে একজন ব্যবহারকারী অনায়াসেই এন্ড্রয়েডের আসল মজা পেয়ে থাকেন। আপনিও কি এমন একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন কিনতে চান?

 

আইফোন কি?

আধুনিক ইন্টারনেট এবং মাল্টিমিডিয়া সমৃদ্ধ স্মার্টফোন হচ্ছে আইফোন। এটি ‘অ্যাপল ইনকর্পোরেট’ কর্তৃক প্রদত্ত একটি স্মার্টফোন।

প্রতিষ্ঠানটি আইফোন নির্মাণের স্বার্থে ২০০৫ সাল থেকে কাজ করে আসছে।

আইফোনে যে অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয় তা হচ্ছে আইওএস (IOS)-আইফোন অপারেটিং সিস্টেম। জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে আমরা দেখব এন্ড্রয়েড আর আইফোন কতটা বেশি জনপ্রিয়?

তার মানে আমরা জানতে চলেছি, এন্ড্রয়েড বনাম আইফোন, কোনটি সেরা?

তো বন্ধুরা সাথেই থাকুন, আর আমাদের তথ্য সমৃদ্ধ পোস্ট পড়ুন। সেই সাথে জীবন ও প্রযুক্তির মিলবন্ধন খুঁজে দেখুন। খুঁজে না পেলে আমাদেরকে অনুসরণ করুন।

তবে,

আপনিও কি এমন একটি আইফোন কিনতে চাচ্ছেন? তাহলে, নতুন কিংবা পুরাতন যে ধরণেই আইফোনই আপনি কেনেন না কেন আইফোন কেনার আগে আপনাকে সাবধান হতে হবে।

 

এবার দেখুন, android iphone –

আইফোন এবং এন্ড্রয়েডের মধ্যে তফাৎ (android vs iphone bangla)

এন্ড্রয়েড ডিজাইসগুলো এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে কাজ করে থাকে। অপরদিকে, আইফোন এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম এ চলে না।

আইফোনের জন্য নির্ধারিত অপারেটিং সিস্টেম হল আইওএস (I-phone Operating System)

এখনও ভাবছেন কোনটি কিনবেন? এন্ড্রয়েড নাকি আইফোন? তাহলে চলুন আরো কিছু জানা যাক-

 

সহজ অপারেটিং সিস্টেম

আইফোনের অপারেটিং সিস্টেম হল অ্যাপল আইওএস যেখানে এন্ড্রয়েডের অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েড। এটি অপেক্ষাকৃত সহজ একটি অপারেটিং সিস্টেম।

অনেক সহজ হবার কারনে অনেক বেশি জনপ্রিয় মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েড

তাহলে জানতে চান কেন এন্ড্রয়েড সবচেয়ে জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম? চলুন পড়তে থাকি…

স্মার্ট ফোনের জগতে অনেক সহজবোধ্য, অ্যাপ্লিকেশনগুলোর সহজলভ্যতা, অল্প দামে বহুল ফিচার পাওয়া এসব কিছুই এই অপারেটিং সিস্টেমকে এত বেশি জনপ্রিয় করে তুলেছে।

একটি এন্ড্রয়েড ফোনকে অনেক সহজেই আপনি ব্যাবস্থাপনা করতে পারবেন। যেখানে অ্যাপল আইফোনকে পরিচালনা করতে আপনার বাড়তি নলেজের প্রয়োজন হতে পারে।

মূল্যের দিক দিয়ে হিসেব করলেও আইফোনের তুলনায় এন্ড্রয়েড অনেক অল্প দামী। তবে অনেক বেশি ফিচার সমৃদ্ধ।

এন্ড্রয়েড বনাম আইফোন

সহজ এবং সব জায়গায় পাওয়া যায় বলে মানুষ এই অপারেটিং সিস্টেমকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে।

এন্ড্রয়েডের অ্যাপগুলো উন্মুক্ত। যার ফলে আপনি গুগল প্লে স্টোর থেকে অনেক সহজেই সেগুলো ডাউনলোড করে ইচ্ছেমত ব্যবহার করতে পারবেন। কোন ঝামেলায় পড়তে হবে না।

তবে কোন অ্যাপস ডাউনলোড করার আগে তার রিভিউ ভালভাবে চেক করে ডাউনলোড দেবার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

যদিও প্রতিটি অ্যাপস ভালভাবে পর্যবেক্ষণের পরেই গুগল প্লে স্টোরে ছাড়া হয় তারপরেও সমস্যা হতে পারে। তাই ফোনে অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহারের চেষ্টা করবেন।

এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম এর অ্যাপসগুলো অনেক সহজ হওয়ায় অনেকেই এই অপারেটিং সিস্টেমটি অধিক জনপ্রিয়।

মজার বিষয় হলো এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমকে আপনি বাটন ফোনেও খুঁজে পাবেন, মানে বাটন এন্ড্রয়েড ফোনও বাজারে পাওয়া যায়। ফোনটির নাম জিও টি/ জিও টি-১৯

বাজারে ফোনটির মূল্য রাখা হয়েছে, ৩৩০০ -৪৫০০ টাকা। এর মাধ্যমে আপনি এন্ড্রয়েডের প্রায় সকল সুবিধায় পেয়ে যাবেন।

দুর্দান্ত গতিসম্পন্ন এই ফোনে রয়েছে ৪ জি নেটওয়ার্ক যা আপনাকে অবাধে ব্রাউজ করার সুবিধা প্রদান করবে।

নতুন ব্যবহারকারীরা সহজেই এন্ড্রয়েড সিস্টেমকে বুঝতে পারে। যেখানে আইফোনের কার্যপ্রণালী এবং অ্যাপগুলো তুলনামূলক জটিল হওয়ায়,

নতুন ব্যবহারকারীরা এটি সহজে আয়ত্বে আনতে পারে না। সুতরাং, আপনি যদি নতুন কোন স্মার্ট ব্যবহারকারী হতে চান তবে আপনার জন্য এন্ড্রয়েডই সেরা।

অল্প মূল্যে বাড়তি স্টোরেজ সুবিধা

একটি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের মাঝে আপনি অনেক বেশি স্টোরেজ অল্প টাকায় লাগাতে পারেন।

যেখানে একটি আইফোনের বিল্ড ইন স্টোরেজ পেতে আপনাকে অনেক বেশি মূল্য চুকাতে হতে পারে।

যেমন, আপনি একটি স্মার্ট ফোন কিনলেন যা এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম সমৃদ্ধ। ধরুন, এতে বাড়তি ৬৪ জিবির একটি মেমরি কার্ড সেট করবেন।

এক্ষেত্রে আপনি যে পরিমান টাকার বিনিময়ে এটি সেট করলেন, একটি আইফোনের মাত্র ৪ জিবিতে তার চেয়ে বেশি পরিমাণ মূল্য দিতে হবে।

তাহলে বোঝা যাচ্ছে এন্ড্রয়েডের তুলনায় আইফোনের খরচ অনেক বেশি।

এই কারণেই আইফোনের ক্রয়মূল্য শুরুতেই ৫০ হাজার + হয়ে যায় এবং যত বেশি ফিচার তত বেশি দাম।

এত বেশি দাম হবার কারণেই অনেকের ইচ্ছা থাকলেও ক্রয় ক্ষমতার সাধ্য হারিয়ে যায়।

যার ফলে আইফোন কেনার আশা আশায় থেকে যায়। স্বপ্ন আর পূরণ হয় না!

 

ওয়েব ব্রাউজিং সুবিধা এবং মেইলে ডিফল্ট অ্যাপের ব্যবহার

একটি আইফোনে আপনি ওয়েব ব্রাউজিং সুবিধা অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের মত পাবেন না।

সাধারণ স্মার্ট ফোনে খুব সহজেই গুগল ক্রোম, মজিলা ফায়ারফক্স ব্রাউজার ইন্সটল কোন কোন ক্ষেত্রে ডিফল্ট থাকে খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারেন।

অপরদিকে,

আপনি যদি একটি আইফোনে এই সুবিধা পেতে চান তবে পড়বেন বিপাকে। তাছাড়াও মেইলের জন্য ডিফল্ট কিছু অ্যাপ থাকে এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম যা সত্যিই অনেক ভাল।

আপনি এগুলো আইফোন অপারেটিং সিস্টেম এ এত সহজে কখনই পাবেন না।

 

অন্যান্য ‍সুবিধা-অসুবিধার বিষয়

গবেষণায় দেখা গেছে যে, অ্যাপল আইফোন ব্যবহারকারীর প্রায় ৬২ শতাংশ সফটওয়্যারের সমস্যার শীকার হয়েছেন।

অপরদিকে,

এন্ড্রয়েড ইউজাররা এরুপ সমস্যার শীকার হয়েছেন মাত্র ৪৭ শতাংশ।

আর বেশিরভাগ পিসিতে আমরা উইনডোজ চালাতে দেখি। এন্ড্রয়েড অপারেটি সিস্টেম খুব সহজেই পিসির সাথে সংযোগ স্থাপনে সাহায্য করে।

যেখানে অ্যাপল আইফোন অপারেটিং সিস্টেমকে খুব সহজেই পিসির সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারবেন না।

এক্ষেত্রে,

পিসিতে আইফোনের সফটওয়্যার ইনস্টল দিয়ে তারপর কানেক্ট করতে হয়। যা অনেকের কাছেই ঝামেলাপূর্ণ মনে হতে পারে।

আর একটি বিষয় না বললেই নয়,

অ্যাপল আইফোন ব্যবহার করলে আপনি কখনই ব্যাটারি চেঞ্জ করতে পারবেন না।

ফলে পরবর্তীতে অনেক বেশি ঝামেলায় পড়তে পারেন। এছাড়াও আপনি আপডেট জনিত অনেক ঝামেলায় পড়তে পারেন,

যদি,

অ্যাপল আইফোন ব্যবহার করেন তো। অপরদিকে যদি এন্ড্রয়েড স্মার্ট ফোন ব্যবহার করেন তাহলে আপনাকে আপডেট জনিত কোন ঝামেলায় পড়তে হবে না।

সুতরাং একটা বিষয় নিশ্চয় ক্লিয়ার হয়ে গেছে,

এন্ড্রয়েড জনপ্রিয়তায় আইফোনের তুলনায় এগিয়ে। এরপরেও যদি আপনি একটু বেশি স্মার্ট হয়ে থাকেন আর টাকা পয়সা অঢেল থাকে,

তো নিতে পারেন একটি আইফোন।

আপনার জন্য রিকমেন্ডেড পোস্ট,

অল্প বাজেটের সেরা মোবাইল ফোন (৩৫০০-৯৯৯৯ টাকার মধ্যে)

 

ভাল থাকবেন, সুস্থ্য থাকবেন।

আল্লাহ্ হাফেজ।

 

1 thought on “এন্ড্রয়েড বনাম আইফোন, কোনটি সেরা?”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *