ms-office

কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন (Computer Office Application) খুঁটিনাটি

 

বর্তমান বিজ্ঞানের যুগে একটি কম্পিউটার আমাদের নিত্য দিনের সঙ্গীতে পরিণত হয়ে গেছে। ভূমির তলদেশ থেকে মহাকাশ পর্যন্ত পর্যবেক্ষন এব সূচারুভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে কম্পিউটারের মাধ্যমে। সেদিক থেকে বলতে গেলে বর্তমান যুগকে কম্পিউটারের ‍যুগ বললে কোন অংশেই কম বলা হবে না। আমরা আজকে কম্পিউটারের উইনডোজ অফিস অ্যাপ্লিকেশন সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবো।

কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন বলতে কি বোঝায়? প্রথমে এটা নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক।

 

অফিস অ্যাপ্লিকেশন (Computer Office Application)

কম্পিউটারের মাধ্যমে যখন অফিসিয়াল কোন ডকুমেন্টের কাজ করা হয় তখন সেগুলো অফিস অ্যাপ্লিকেশন তথা অফিসিয়াল সফটওয়্যারের মাধ্যমে করা হয়।

একটি অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম সম্পর্কে জানতে এপিআই পড়তে পারেন।

অর্থাৎ যে সকল সফটওয়্যারের মাধ্যমে আমরা অফিসিয়াল কোন কাজ করে থাকি সেই সকল সফটওয়্যারকে আমরা মূলত অফিস অ্যাপ্লিকেশন বলে থাকি।

কম্পিউটারে অফিস অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে নিচের চারটি সফটওয়্যার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

  • মাইক্রোসফট ওয়ার্ড (Microsoft Word)
  • এক্সেল (Excel)
  • এক্সেস (Access)
  • পাওয়ার পয়েন্ট (Power Point)

এই হাবলুর বাপ! একটু বিস্তারিত বলতে কি হচ্ছে।

একটু দাঁড়া না রে ভাই, বলছি তো, না বলার সময়ও দিবি না!!

চলুন বন্ধুরা তাহলে এবার কম্পিউটারের প্রয়োজনীয় চারটি অফিস প্রোগ্রাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি।

মাইক্রোসফট্ ওয়ার্ড (Microsoft Word)

 

microsoft-word

 

জনপ্রিয় টাইপিং সফটওয়্যার মাইক্রোসফট ওয়ার্ড টাইপিং এর জগতে এখনও সবার শির্ষে অবস্থান করছে। সুন্দরভাবে ইজিলি কিছু লেখার জন্য এই প্রোগ্রামটি ব্যবহার করা হয়।

এর মাধ্যমে আপনি অফিসিয়াল বিভিন্ন কাজ যেমন, কোন আবেদন পত্র লেখা, কোন দাওয়াত কার্ড এ লেখা, জমির দলিলাদি লেখাসহ যে সকল কাজে লেখার প্রয়োজন সব ক্ষেত্রেই মোটামুটি ব্যবহার করা হয়।

মাইক্রোসফট এর এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে আপনি যতটা ইজিলি কোন কিছু লিখতে পারবেন তা অন্য কোন সফটওয়্যার এর মাধ্যমে সম্ভব হয় না।

এই কারণেই এটি লেখার জন্য সবার শির্ষে এখনও পর্যন্ত বহাল আছে। তবে এই প্রোগ্রামটি এখন শুধুমাত্র লেখালেখিতেই সীমাবদ্ধ নয় বরং গ্রাফিক্স সেকশনেও বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

আপনি গ্রাফিক্সের অনেক কাজ এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে পারবেন। তবে গ্রাফিক্স এর জন্য সেরা হচ্ছে ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর, কোয়ার্ক এক্সপ্রেস ইত্যাদি।

 

এক্সেল (Excel)

 

microsoft-excel

 

অফিসিয়াল হিসাব নিকাশের একটি সেরা সফটওয়্যার হচ্ছে মাইক্রোসফট এক্সেল। এর মাধ্যমে যে কোন হিসাব নিকাশ অনায়াসেই করা সম্ভব।

এই প্রোগ্রামটি ব্যবহার করে আমরা বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল ইজিলি ক্রিয়েট করতে পারি। আপনি যদি কোন গাণিতিক টার্ম ব্যবহার করতে চান তবে এক্সেল সেরা পছন্দ।

এর মাধ্যমে আপনি যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ, শতকরা  হিসেবসহ গাণিতিক সকল টার্ম সম্পাদন করতে পারবেন।

বিভিন্ন কোম্পানি তাদের কর্মীদের মাঝে বেতন-ভাতা প্রদান করে থাকেন। এ ধরণের বেতনশীট তৈরী করা হয় এক্সেল শিটে।

স্কুলের পরীক্ষার্থীদের রেজাল্ট শীট তৈরী করতে কাজে লাগে এক্সেল।

সর্বোপরী সব ধরণের হিসাব নিকাশের এক সহজ মাধ্যম হচ্ছে এক্সেল। এর মাধ্যমে যে কোন বড় ধরনের গাণিতিক টার্ম ইজিলি সম্পাদন করা যায়।

 

এক্সেস (Access)

 

microsoft-access

 

আপনি হয়তো ডাটাবেইজ নামটির সাথে পরিচিত। একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সচরাচর ডাটাবেইজ এর সাথে পরিচিত হয়ে থাকেন।

কেননা কম্পিউটার ব্যবহারের সময় বিভিন্ন ধরণের ফাইল আমাদের স্টোর করে রাখার প্রয়োজন পড়ে। কখনও ভেবেছেন কি এসব ফাইল কোথায় রাখা হয়।

আবার অনলাইনে আমরা বিভিন্ন চাকুরীর ফরম পূরনের সময় অনেক ডকুমেন্ট যেমন, ছবি, সিগনেচারসহ প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্টস দিয়ে থাকি।

এগুলো স্টোর করে রাখার জন্য নিশ্চয় কোন না কোন জায়গার প্রয়োজন হবে তাই নয় কি?

এসব তথ্যকে যে জায়গায় স্থাপন করা হয় সেটাই ডাটাবেইজ। মাইক্রোসফট এক্সেস মূলত ডাটাবেইজ সংক্রান্ত প্রোগ্রাম।

এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের টেবিল তৈরী করে ডাটা স্তরে স্তরে সাজানো যায়। ফর্ম তৈরী করা যায় এবং এই ফর্মের মাধ্যমে ডাটা সাবমিট করা যায়।

 

পাওয়ার পয়েন্ট (Power Point)

 

microsoft-power-point

 

বিভিন্ন ধরণের কার্ড যেমন, পরিচিতি কার্ড, বিজনেস কার্ড, দাওয়াত কার্ড, এনিমেশন, বিভিন্ন স্লাইডশো তৈরী করার জন্য পাওয়ার পয়েন্ট অফিসিয়াল প্রোগ্রামের এক বিশেষ সফটওয়্যার।

ওয়েব ডিজাইনারদের অনেকেই এটি তাদের কাজের একটি অংশ হিসেবে রাখেন। এর মাধ্যমে স্লাইডশো তৈরী করে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ব্যবহার করে থাকেন।

এখানে এক্সপার্ট হবার জন্য আপনাকে নিয়মিত প্র্যাকটিস করে যেতে হবে।

 

অফিস অ্যাপ্লিকেশন কোর্স করতে কত দিন লাগে?

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন, কারিগরী, বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, সমাজ সেবাসহ আরো অনেক মাধ্যমে আপনি পরীক্ষা দিতে পারেন।

বিভিন্ন মেয়াদে এই কোর্সটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চালান। কেউ ৩ মাস কেউবা ৬ মাস। সাধারণত এই দুই অবস্থায় বেশি।

আবার এই প্রোগ্রামগুলোর সাথে ফটোশপ সংযোজন করে কম্পিউটার ডিপ্লোমা নামে আর একটি অগ্রবর্তী লেভেলের সফটওয়্যার কোর্স প্রদান করা হয়।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কোর্সটিকে বিভিন্ন নাম দিয়ে থাকেন। যেমন কারিগরী প্রতিষ্ঠান- কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন এই নামে;

বাংলাদেশ ডাক বিভাগ- ৬ মাস মেয়াদী সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন এই নামে কোর্সটি করিয়ে থাকেন।

 

অফিস অ্যাপ্লিকেশন কোর্স করতে কত টাকা লাগে?

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন চাহিদা রাখে। কোন কোন প্রতিষ্ঠান উক্ত কোর্স ২৫০০ টাকা থেকে শুরু করে। কেউ ৩০০০ টাকা চার্জ রাখে।

আবার অনেক প্রতিষ্টান ৪০০০ টাকা পর্যন্ত কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশনের ফি রাখে।

সাধারণত রেজিস্ট্রেশন করতে প্রতি স্টুডেন্ট এর জন্য,

বাংলাদেশ কারিগরী প্রতিষ্ঠানের অধীনে ৯০০-১১০০ টাকা, বাংলাদেশ ডাক বিভাগের অধীনে, ৮৭৫-১০৫০, বিসিই এর ক্ষেত্রে, ৯০০-১১০০ টাকা গ্রহন করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

এটি একটি সম্ভাব্য চার্ট। মূল্য তালিকা পরিবর্তন হতে পারে।

 

কোর্সটি কাদের জন্য?

আমি তো মাত্র অষ্টম শ্রেণী পাস করেছি। আমি কি কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন কোর্সটি করতে পারবো?

জ্বি জনাব আপনি মাত্র পঞ্চম শ্রেণী পাস করেও এই কোর্সটি করতে পারবেন। তবে কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নাও সুযোগ পেতে পারেন।

সরকার অনুমোদিত যে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে করতে পারেন। কোন সমস্যা হবে না।

তার মানে বোঝা গেল কোর্সটি মোটামুটি অষ্টম শ্রেণী পাস হলেই করা যাবে।

 

সরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে কোর্স করা ভাল নাকি বেসরকারী?

এটা নিয়ে অনেকেই অনেক মন্তব্য পোষণ করতে পারেন। তবে আমার দৃষ্টিকোণ থেকে আমি লক্ষ করি একটি বে-সরকারী প্রতিষ্ঠানে গুরুত্ব বেশি দিয়ে শেখানো হয়।

তাহলে,

সার্টিফিকেট এর কি মান সমান হবে?

জ্বি জনাব, আপনি একটি সরকারী ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি লাভ করলেন আর আপনার এক বন্ধু বে-সরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি লাভ করল।

তাহলে, কি আপনার ডিগ্রি বেশি মূল্যবান? না জ্বনাব যদি এমনটা ভেবে থাকেন তো সেটি আপনার ভুল ধারণা।

আপনি ডিফারেন্সটা শুধু বাংলাদেশেই পাবেন। একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি নিয়ে বিদেশে যান। আপনার প্রতিপক্ষ সেখানে বে-সরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি নিলেও সেখানে দুই জনের ডিগ্রির মান সমান।

আর আপনারা যারা সরকারী ভার্সিটিতে পড়ে নিজেকে বড় ভাবেন তাদের একটি কথা স্বরণ করিয়ে দেই, অবজ্ঞার উদ্দেশ্যে নয়, আমাদের দেশের কৃষক, শ্রমিক, মজুরের করের টাকা দিয়ে সেই সব ভার্সিটির প্রায় ৯০% চালানো হয়।

তবে একটি বিষয় বেশি লক্ষণীয় সরকারী ভার্সিটির স্টুডেন্টদের একটু বেশি উদার হতে দেখা যায়। এগুলো আমার ধারণা।

কেউ মনে আঘাত নিবেন না। কাউকে আঘাত করে কিছু লিখি নাই। যা আমার জানা ছিল তাই উল্লেখ করেছি মাত্র।

কম্পিউটার সার্টিফিকেট কোর্স ও মূলত অনেকটা এরকম, আপনি বে-সরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে করেন আর সরকারী উভয় ক্ষেত্রেই মান সমান পাবেন।

দেখা গেল কোন রকম একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে সার্টিফিকেট জোগার করে নিলেন, আর আপনি কম্পিউটার চালু করতে পর্যন্ত পারেন না।

তাহলে কি হাবলুদার কোম্পানি আপনাকে চাকুরী দিবে? কি দেখে দেবে তারা?

মূল কথা হচ্ছে আপনি সার্টিফিকেট যে জায়গা থেকেই পড়াশুনা করে সংগ্রহ করেন না কেন আপনার অবশ্যই কাজের দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

 

কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশনে ক্যারিয়ার

ভাই কম্পিউটার অফিসিয়াল প্রোগ্রামতো শিখে গেছি। এখন চাকুরী কোথায় পাবো। আপনি অনলাইন থেকে  ‍শুরু করে অফলাইনেও অফিস অ্যাপ্লিকেশনের বহু কাজ পাবেন।

কাজগুলোর মজুরী সাধারণত কম হয়। তবে মার্কেটপ্লেজে এই ধরণের কাজের প্রচুর চাহিদা থাকলেও অনেক সহজ হওয়ায় প্রচুর পরিমাণে প্রতিযোগিতা লক্ষণীয়।

কাজেই পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্ঞান আহরণ করে মাঠে নামতে পারলে খেলা শতভাগ হবে সুন্দর এটা বলা যায়। অফিসিয়াল কোর্সের মাধ্যমে আপনি একটি স্মার্ট ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।

যে কোন সরকারী কিংবা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করতে পারেন একজন কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে।

 

তো বন্ধুরা আশা করি কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে আপনাদের মনের অনেক প্রশ্নের অবসান ঘটেছে।

আজ আর নয়। বিদায় নিচ্ছি; সকলের সু-স্বাস্থ্য কামনা করে।

আল্লাহ্ হাফেজ।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *