whatsapp

Whatsapp কে আবিস্কার করেন? হোয়াট্সঅ্যাপের যত কথা!

 

Whatsapp (হোয়াটস্যাপ) এপপ্স কি? একটি জনপ্রিয় অ্যাপ যার ব্যবহার 180 টির বেশি দেশ জুরে রয়েছে। এই অ্যাপটিও অন্যান্য অ্যাপের মতোই একটি মেসেজিং অ্যাপ।

সুতরাং আমরা হোয়াটসঅ্যাপ কি? এর আবিষ্কার কে করেন? এর মূল উদ্দেশ্য ইত্যাদি খুটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো।

 

Table of Contents

হোয়াটসঅ্যাপ আবিষ্কার কে করেন-

হোয়াটসঅ্যাপ আবিষ্কার করেন ব্রায়ন অ্যাক্টন ও জ্যান কৌম। 2009 সালে তারা এটি আবিষ্কার করেন।

এটি চালানোর জন্যে মোবাইল ডাটা বা Wifi কানেকশনের প্রয়োজন হবে। এক কথাই অ্যাপটি একটি ডাটা প্রযোজ্য অ্যাপ্লিকেশন।

 

হোয়াটসঅ্যাপ কি-

হোয়াটসঅ্যাপ হচ্ছে একটি জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশন এবং এটি একটি ইন্টারনেট প্রটোকল পরিষেবা।

যা সারা বিশ্বে 1.5 মিলিয়ন বা তার চেয়েও অনেক বেশি ব্যবহারকারী ব্যবহার করছেন।

 

হোয়াটসঅ্যাপের ইতিহাস-

জ্যান কৌম ও ব্রায়ন অ্যাক্টন মিলে হোয়াটসঅ্যাপ তৈরি করেন। তারা দুই জনেই এই অ্যাপ তৈরির আগে (সার্চ ইঞ্জিন ইয়াহু ) এর কর্মী ছিলেন।

তারা ইয়াহু থেকে চাকরি ছাড়ার পর ফেসবুক এ চাকরির জন্য চেষ্টা করেন, কিন্তু সেখানে তারা সুযোগ পান নাই।

তাদের কাছে কিছু পুজি ছিল যা দিয়ে জ্যান কৌম কিছু একটা করার চিন্তাভাবনা করছিল। এরপর তিনি একটি আইফোন নিলেন।

আইফোনের জন্য নতুন একটি অ্যাপ বানানোর প্রস্তাব রাখেন তার বন্ধু অ্যালেক্স ফিসম্যানের কাছে।

এরপর কৌমের বন্ধু একজন আইফোন ডেভলোপারের সাথে স্বাক্ষাত করে দিলেন। তখন কৌম অনেক দ্রুত একটি নাম ঠিক করলেন নতুন অ্যাপটির জন্য।

যা ইংরেজি শব্দ “হোয়াটস আপ” এর সাথে মিল ছিল।

কিন্তু অ্যাপটি শুরুতে অনেক ক্র্যাশ করতো। তারপরেই ব্রায়ন অ্যাক্টন ও কৌম বাগ ফিক্স করেন এবং একই বছরে তারা 2.0 হোয়াটসঅ্যাপ বের করেন মেসেজ ফিচারের সাথে।

তার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ দুই শত হাজার হাউজার পেরিয়ে যায়। আর এর পর থেকেই তারা সফলতার চূড়ায় পৌঁছান।

 

হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহার-

Whatsapp কিভাবে ব্যবহার করে? চলুন জেনে নিই যে কিভাবে হোয়াটসঅ্যাপ দিয়ে আপনি দেশের যেকোন জায়গায় থাকা ব্যক্তি বা আপনার কোন আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধবের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন।

আর যোগাযোগের জন্য একটা হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট আপনাকে খুলতে হবে। এই অ্যাকাউন্টের জন্যে আপনাকে নির্দিষ্ট একটি নাম্বারে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।

যার সাথে কথা বলতে চান বা চাইবেন তার যে নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থাকলেই তবেই আপনার অ্যাকাউন্টে দেখাবে, আপনি তার সাথে কথা বলতে পারবেন।

Whatsapp এ শুধু মেসেজ করেই কথা বলা যায় তা কিন্তু নয়। আপনি চাইলে ভিডিও বা অডিও কলে কিংবা ভয়েস মেসেজিং করেও কথা বলতে পারবেন।

এছাড়াও আপনি কোন ছবি বা যেকোন ধরনের ডকুমেন্ট আদান প্রদান করাতে পারবেন।

 

হোয়াটসঅ্যাপের মূল লক্ষ্য কি-

হোয়াটসঅ্যাপ কেবল মাত্র এসএমএস এর বিকল্প হিসেবে শুরু করা হয়ছিল। কিন্তু এখন আমাদের বিভিন্ন ধরনের প্রোডাক্ট আদান প্রদানের সাপোর্টও দিয়ে থাকেন।

আপনি আপনার কিছু ব্যক্তিগত মুহূর্ত এই অ্যাপ্লিকেশনে শেয়ার করতে পারবেন নির্বিঘ্নে।

কারণ, জনাব অ্যাক্টন আর কৌম অ্যাপটিতে এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন সুরক্ষা (এমন এক পদ্ধতি যার মাধ্যমে ইউজারদের কমিউনিকেশন স্বয়ং অ্যাপের মালিক পর্যন্ত জানেন না) প্রদান করে থাকেন। আর এর লক্ষ্য হচ্ছে পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে নির্বিঘ্নে কন্ট্যাক্ট করতে পারবেন।

এতটা সুরক্ষা প্রদান করে যে স্বয়ং অ্যাক্টন আর কৌমও জানেন না ইউজাররা তাদের মাঝে কি আদান প্রদান করছে।

 

হোয়াটস্যাপ কমিউনিকেশন এপপ্স-

হোয়াট্অ্যাপ কি একটি কমিউনিকেশন এপ্স? তার মানে এর মাধ্যমে আমরা কি বিভিন্ন জন এক অন্যের সাথে যোগাযোগ করতে পারবো?

জ্বি বস, এটি একটি কমিউনিকেশন অ্যাপ।

এর মাধ্যমে আপনি সহজেই যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে পারেন।

 

হোয়াটসঅ্যাপ যেভাবে ভূমিকা রাখে-

  • তাৎক্ষনিক বার্তা প্রদান (Instant Message Send)
  • ভয়েস কল (Voice Call)
  • গ্রুপ ফাংশন (Group Function)
  • ভিডিও কল (Video Call)
  • লোগোতে প্রফাইল পিকচার (Set Profile Pic in Logo)
  • ওয়েব সাইট (Set web)
  • কম্পানির অবস্থা (Situation of Company)
  • হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব (Whatsapp Web)- এর মাধ্যমে হোয়াট্অ্যাপকে কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত করা যায়।

 

হোয়াটসঅ্যাপের  জন্য কিছু জরুরি তথ্য-

  1. আবিষ্কারক হিসেবে ব্রায়ন অক্টেন ও জ্যান কৌম হোয়াটসঅ্যাপের জনক।
  2. ভিডিও কনফরেন্সিং,ফোনে যোগাযোগ ইত্যাদি ফুল ডুপ্লেক্সের কাজ।

 

 

হোয়াট্সঅ্যাপ ব্যবহারে যেগুলো এড়িয়ে চলবেন-

১) প্রোফাইল পিক নির্বাচনে সাবধান থাকা

আমাদের উচিত একটি সঠিক প্রোফাইল ফটো নির্বাচন করা। অপরিচত কাউকে যোগ করবেন না।

কন্ট্যাক্ট লিস্টে সেইভ এবং আনসেইভ দুই ধরনেরই হোয়াটসঅ্যাপ সংযুক্ত থাকা সকলেই আপনার অ্যাকাউন্ট প্রোফাইল ফটো দেখতে পারবে।

যদি সেই ছবি টি উন্মুক্ত করে রাখা হয়। আর তাই কর্মক্ষেত্রের জন্য খুব সাধারন একটি পিক দেওয়া উচিত।

 

২) Whatsapp কন্টাক্ট তালিকার সবাইকে সংযুক্ত করবেন না

বর্তমানে স্মার্টফোন গুলোতে অনেক বেশি কন্টাক্ট ধারন করা যায়। যে কারো কাছে আপনার কন্ট্যাক্ট নাম্বার থাকায় সে কোন না কোন প্রয়োজনে আপনার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করতে পারে।

কিন্তু সেই ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে যে আপনার প্রয়োজনীয় কন্ট্যাক্ট নাম্বার যাদের সাথে আপনি যোগাযোগ প্রায় করে থাকেন।

হোয়াট্সঅ্যাপ মেসেঞ্জারের কি একই কথা নাকি আলাদা? এদের মাঝে কি কানেকশন আছে?

একমাত্র তাদের নাম্বার ছাড়া বাকি সকল নাম্বার মুছে ফেলুন। যাদের সাথে তেমন কথা বলতে হয়না।

কেননা, হোয়াটসঅ্যাপ হলো সবসময় যোগাযোগের এক্সেস নিয়ে থাকে।

 

৩) স্টাটাসের মেসেজ পাবলিক শেয়ার করবেন না

হোয়াটসঅ্যাপে স্টাটাস মেসেজ দেওয়া যায় না এর কারণ সেটিংস। আমাদের আনেকর এই বিষয়টি হয়তো জানা নেই তাই আগে সেটিংস ঠিক করে নিন।

আপনি সেটিংস গুলো চেঞ্জ করে শুধু মাত্র পরিবারের সদস্য বা বন্ধু বান্ধবের সাথে স্টাটাস মেসেজ গুলো উন্মুক্ত করতে পারেন।

 

এপিআই কি? জানুন এপিআই নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

 

৪) Whatsapp অন্যের নামে না চালানো

নিজের নামে হোটসঅ্যাপ সেট করতে হবে। আর নিজের নাম না দিয়ে অন্য নামে অনেকেই এই অ্যাপ ব্যবহার করেন।

এতে করে অনেক সমস্যা হতে পারে। আর তাই এরকম চিন্তা ভাবনা বর্জন করতে হবে।

 

৫) ভেরিফিকেশন দুই স্তরের পদ্ধিতি চালু করতে হবে (Run Two Step Authentication)

অন্য কেউ আপনার হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার না করতে বা যোগাযোগ না করতে পারে, সেই ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন করা জরুরি।

অথবা ফোন নাম্বার দিয়ে মোবাইল ব্যতিত আলাদা জায়গায় আপনার অনুমতি ছাড়া কেউ লগইন করার ক্ষেত্রে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

একই মোবাইলে কি দুটি হোয়াটস্যাপ অ্যাকাউন্ট সম্ভব! কীভাবে?

 

৬) অহেতুক কোন ধরনের খবর বা কথা না ছড়ানো

হোয়াটসঅ্যাপে অহেতুক কথা/খবর ছড়াবেন না। এতে করে আপনার বিরূদ্ধে আইনতো শাস্তি হতে পারে।

শুধু তাই নয় বরং যাদের নিয়ে আপনি বাজে কথা বা খবর ছড়াচ্ছেন তাদের মাঝেও দন্দ্ব  সৃষ্টি হতে পারে।

যার প্রভার সব জায়গায় ফেলতে পারে।সুতরাং গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকবেন।

 

৭) সবাইকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করবেন না

এই Whatsapp এর জনপ্রিয় দিক হচ্ছে বিভিন্ন রকমের গ্রুপ। যে গ্রুপটি যে কাজের সেই গ্রুপের সদস্যরা সেই কাজ গুলোর বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারবে।

এজন্য কাউকে ‍যুক্ত করা ঠিক হবেনা যার কারণে বিব্রতকরের সৃষ্টি হয় গ্রুপে। এটি ঠিক রাখার জন্যে গ্রুপের প্রাইভেসি ঠিক রাখতে হবে।

 

৮) এখানে কোন আপত্তিকর ভিডিও বা ছবি ছাড়া যাবেনা

হোয়াটসঅ্যাপে পর্নগ্রাফি কোন পিক বা ভিডিও শেয়ার করা উচিত নয়। কারণ এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ যার দারা আপনি মানহানির মামলাও খেতে পারেন।

আর এইরকম শেয়ার যে করবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন রিসিভাররা।

অতএব, এই ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকবেন।

 

হোয়াটসঅ্যাপে ব্লক করলে কি ভাবে বুঝতে পারবেন-

ব্লক সাধারনত ব্যবহারকারী ব্যক্তির নির্বাচিত সেটিংস এর গোপনীয়তার কারণেও হতে পারে।

Whatsapp ব্লক হওয়ার লক্ষ্য হচ্ছে অনলাইনে স্টাটাস দেখাতে পারা যাবেনা এবং চ্যাট উইন্ডোতে সর্বশেষ পরিচিতির দেখা।

যে কন্টাক্ট ব্লক দিবে আপনাকে তার প্রোফাইল দেখতে পারবেন না। আর তাকে যখন আপনি মেসেজ পাঠাতে যাবেন তখন একটি চেক মার্ক দেখাবে শুধু।

আবার ভিডিও অডিও কল করার চেষ্টা করেও নিশ্চিত হতে পারবেন যে ব্লক করা হয়েছে কি না।

হোয়াটস্যাপ আপডেট ডাউনলোড করতে চাই, কিন্তু কিভাবে? গুগল প্লে-স্টোরে যান আর সার্চ বক্সে লিখুন হোয়াট্সঅ্যাপ, দেখুন ইনস্টল করা থাকলে আপডেট অপশন দেখাবে।

আর যদি ইনস্টল না করা থাকে তবে ইনস্টল করে নিন। আপনি আপডেট ভার্সন পেয়ে যাবেন।

যদি  ব্লক হয় তাহলে সেই কলটি কানেক্ট হবে না ।

 

ব্লক কন্টাক্ট আনব্লক করার উপায়-

  • হোয়াটসঅ্যাপ খুলুন এরপর সেটিংস ‍এ চলে যান।
  • অ্যাকাউন্ট, প্যাইভেসি, ব্লক, কন্টাক্টস এই অপশনগুলো ক্লিক করে

চলতে থাকেন।

  • এরপর আপনি যে কন্ট্যাক্ট মুছে ফেলতে চান,সেটি সিলেক্ট করুন।

 

তো বন্ধুরা আজ এ পর্যন্তই। দেখা হবে পরবর্তী কোন পোস্টে। সে পর্যন্ত ভাল থাকেন সুস্থ্য থাকেন। 

আল্লাহ্ হাফেজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *