computer-skill

কম্পিউটার স্কিল কেন প্রয়োজন? যে স্কিল অর্জন না করলেই নয়!

 

বলা হচ্ছে যে বর্তমান যুগ কম্পিউটারের যুগ। আর বর্তমান বিশ্বকে গতিময় করে তুলেছে কম্পিউটার নামক বিজ্ঞানের অন্যতম আবিষ্কার। আমাদের আজকের টিউন, কম্পিউটার স্কিল কেন প্রয়োজন?

তো বন্ধুরা চলুন জেনে নিব দৈন্দদিন জীবনে কম্পিউটার শিক্ষা কেন প্রয়োজন? কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট দুটি আলাদা বিষয় নয় বরং একে অন্যের পরিপূরক।

বিজ্ঞানের অন্যান্য বিষয়ের মত শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার স্কিল থাকাও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কেননা ছাত্র জীবনই হচ্ছে জীবনকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার অন্যতম সময়।

ছাত্র জীবনে কম্পিউটার স্কিল ডিভেলপ করলে ভবিষ্যৎ জীবনে ক্যারিয়ার গঠন করা অত্যন্ত সহজ হতে পারে।

কম্পিউটার দিয়ে আমরা বিভিন্ন ধরণের কাজ করতে পারি। কম্পিউটার স্কিল ডেভেলপমেন্ট এর মাধ্যমে বিভিন্ন এসাইনমেন্ট তৈরী থেকে শুরু করে অনেক বড় ধরনের প্রজেক্ট কমপ্লিটসহ ফ্রিল্যান্সিং এর মত স্মার্ট পেশার সাথে সংযুক্ত হওয়া সম্ভব  ।

বর্তমান সময় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, অফিস-আদালত থেকে শুরু করে এমন কোন জায়গা নেই যেখানে বিজ্ঞানের অন্যতম আবিষ্কার কম্পিউটারের ছোঁয়া লাগে নাই।

তার মানে হল আমরা কম্পিউটার নামক বউ ছাড়া এক মূর্হুতও চলতে পারি না 😋

চলুন তাহলে দেখি কিছু বেসিক কম্পিউটার স্কিল এবং কম্পিউটার বিষয়ক মৌলিক ধারণা 

মূলত,

বেসিক কম্পিউটার স্কিল বলতে আমরা যা বুঝি-

  • কম্পিউটার চালু করা এবং বন্ধ করা
  • অফিসিয়াল সফটওয়্যার সর্ম্পকে ধারণা রাখা
  • বেসিক হার্ডওয়্যার সম্পর্কে ধারণা রাখা
  • সফটওয়্যার কিভাবে ইনস্টল দিতে হয় এবং আনইনস্টল করার প্রক্রিয়া
  • ই-মেইল পাঠানোর পদ্ধতি সম্পর্কে জানা
  • বেসিক ইন্টারনেট দক্ষতা অর্জন

আসলে কম্পিউটার শেখার সহজ পদ্ধতি সম্পর্কে কিছু বলবেন? দুঃখিত জনাব, সহজ পদ্ধতি হউক আর জটিল পদ্ধতি হউক,

মূল উদ্দেশ্য কিন্তু আপনাকে কম্পিউটার শিখতে হবে অর্থাৎ, 

তাই সহজ পদ্ধতি না খুঁজে বরং খুঁজুন,

কম্পিউটার কেন শিখবো? যদি আপনি বুঝে জান যে কেন আপনার কম্পিউটার শেখা দরকার তবে আশা করা যায় আপনি কম্পিউটার সহজে শিখতে পারেন।

 

১) অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে ধারণা

এন্ড্রয়েড আমাদের জন্য অতি পরিচিত একটি শব্দ। নরমাল ক্লাস থেকে শুরু করে মিডল ক্লাসসহ উচ্চ লেভেলের অনেকেই একটি সুন্দর মানের স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে।

নতুনদের জন্য কম্পিউটার শিক্ষা কেমন হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন? চলুন জেনে নিবেন।

এই যে এন্ড্রয়েড এটা কিন্তু অপারেটিং সিস্টেম যা মোবাইল ফোনের জন্য ডিভেলপ করা।

আসলে কম্পিউটার বেসিকের জন্য কি কোন বেসিক কম্পিউটার বই আছে? জ্বি আপনি যেখানে কোর্স করবেন সেখানে অবশ্যই কম্পিউটার বেসিক নলেজ এর বই পেয়ে যাবেন।

অপরদিকে,

আমরা যে কম্পিউটার চালাই তাতে বার বার উইনডোস শব্দটি এসে যায়। একে বলা হয় অপারেটিং সিস্টেম যা কম্পিউটারের জন্য প্রযোজ্য।

তাহলে বন্ধুরা আমরা জানতে চলেছি কম্পিউটার শেখার উপকারিতা সম্পর্কে। চলুন…

 

২) টাইপিং এ দক্ষতা অর্জন

আমরা অনেকেই ঘন্টার পর ঘন্টা লেখার জন্য চর্চা করে থাকি। মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে কম্পিউটারসহ ল্যাপটপে লেখা হয়

এবং সে-সকল ডিভাইস ছাড়াও ভিন্ন ভিন্ন নানা রকমের ডিভাইসে আমাদের লেখার প্রয়োজন পড়ে।

বিভিন্ন চাকুরীতে আমরা দেখি টাইপিং স্পিড মোটামুটি বাংলায় ২০ এবং ইংরেজীতে ৩০ রিকয়ারমেন্ট হিসেবে দেয়া থাকে।

সুতরাং আপনাদের অবশ্যই এর জন্য যথেষ্ট পরিমাণ দক্ষতা অর্জন করা দরকার। কম্পিউটার বেসিক নলেজ বেশি বেশি রাখুন, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ুন।

টাইপিং এ দক্ষতা অর্জন করার জন্য মূলত নিচের সফটওয়্যার সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন।

Microsoft Word (মাইক্রোসফট ওয়ার্ড)

Notepad (নোটপ্যাড)

 

৩) সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং এ দক্ষতা

আমরা অনেকেই সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ফেসবুক ব্যবহার করে দিনের বেশির ভাগ সময় নষ্ট করে থাকি।

আমাদের এ অভ্যাস পরিত্যাগ করে যদি কাজের উদ্দেশ্য নিয়ে এগুলো ব্যবহার করি তাহলে অনেকটা ভাল কিছু আশা করতে পারি।

৪) গাণিতিক সমস্যাবলির সমাধান

ছাত্র জীবন কর্মজীবনকে গড়ার উত্তম সময়। তাই এ সময়ের একটি অবহেলা আপনার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াবে যাতে কোন সন্দেহই নেই।

এ সময় যদি গাণিতিক শর্টকাট বিষয়গুলো দেখে নিতে পারেন তবে এগুলো আপনার ভবিষ্যৎ জীবনকে অনেক বিষয়ে এগিয়ে নিবে।

তবে এটি কিন্তু একদিনে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রতিনিয়তই চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এর সাথে আপনাকে অবশ্যই মাইক্রোসফট এক্সেল এ যথেষ্ট পরিমাণ দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

কেননা অফিসিয়াল বিষয়ে গণিত বলতেই এক্সেল এর নাম সবার আগে চলে আসে। তাহলে এই বিষয়গুলো অর্থাৎ কম্পিউটার শিখতে কত টাকা লাগে এমন প্রশ্নের সমাধান পেতে চলুন পড়তে থাকি।

তাহলে অফিসিয়াল কাজ বলতে আসলে কি বোঝায়?

 

৫) প্রেজেন্টেশন তৈরী

আমাদের যে দুটি সফটওয়্যার বেশি কাজ করি প্রজেক্ট ও প্রেজেন্টেশন তৈরি করার ক্ষেত্রে তা হচ্ছে,

  • গুগল স্লাইডস
  • মাইক্রোসফ্ট পাওয়ার পয়েন্ট

আপনি এ দুটি সফটওয়্যার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিবেন। এগুলো ব্যবহার করে সুন্দর করে প্রফেশনাল লেভেলের প্রেজেন্টেশন তৈরী করা সম্ভব।

ছাত্র জীবনেই এই স্কিলগুলো ডেভেলপ করে নিন। এগুলো পরবর্তীতে আপনার জীবনকে গতিময় করে তুলবে।

গুগল স্লাইডস হচ্ছে গুগলের সেবা। পাওয়ার পয়েন্ট হল মাইক্রোসফট কোম্পানির অফিসিয়ার প্যাকেজ।

৬) রিসার্চ অভ্যেস গড়ে তুলুন

কোন কিছু পর্যাপ্ত পরিমাণ শেখা নির্ভর করে যথেষ্ট পরিমান রিসার্চের মাধ্যমে। একটি বিষয় নিয়ে বারবার প্র্যাকটিস করুন।

ক্যারিয়ার শুরুর আগে কম্পিউটার স্কিল

গবেষণা করার অভ্যেস গড়ে তুলুন। যতটা চর্চা করবেন নিজের দক্ষতা ততটা বাড়াতে পারবেন।

তাই অবহেলা না করে পর্যাপ্ত রিসার্চের মাধ্যমে নিজের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করুন।

 

৭) কিবোর্ড শর্টকাট

অফিসিয়াল সেক্টর হউক কিংবা গ্রাফিক্স যে কোন ক্ষেত্রেই আপনাকে শর্টকাট কি সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।

কম্পিউটার শিখে কিভাবে ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব জানতে চান কি? তাহলে পড়তে থাকুন…

এর মাধ্যমে আপনার কাজের গতি অনেকাংশ বেড়ে যাবে। দ্রুত স্বল্প সময়ের মধ্যে অনেক কিছু আয়ত্বে আনতে আপনাকে কিবোর্ড শর্টকাটগুলো জানতে হবে।

 

৮) বেসিক হার্ডওয়্যার

আপনি যদি অনলাইন কিংবা অফলাইন যে কোন একটি সেক্টরকে প্রধান হিসেবে ধরে নেন তবে আপনাকে কম্পিউটারের বেসিক হার্ডওয়্যার সম্পর্কে জানতেই হবে।

নিজের জন্য হউক কিংবা কোন কোম্পানির জন্য বেসিক হার্ডওয়্যার সম্পর্কে ধারণা না রাখলে আপনাকে সকল ক্ষেত্রেই অন্যের স্বরণাপন্ন হতে হবে।

যা আপনাকে অনেকাংশই বিরক্তির মধ্যে ফেলে দিবে।

তাই যতটা সম্ভব বেসিক হার্ডওয়্যার সর্ম্পকে ধারণা নিন।

সুতরাং কম্পিউটার বেসিকের ক্ষেত্রে আপনি নিচের কাজগুলো পারেন তো?

  • কম্পিউটার চালু করা এবং বন্ধ করা
  • টাইপ করা
  • বেসিক হার্ডওয়্যার
  • অপারেটিং সিস্টেম কন্ট্রোল
  • সফটওয়্যার ইনস্টল এবং আনইন্সটল
  • এন্টিভাইরাসের ব্যবহার
  • বিভিন্ন ব্রাউজারের ধারণা
  • ফটোশপের বেসিক কাজ
  • ইন্টারনেটের বেসিক কাজ
  • ই-মেইল আদান-প্রদান
  • প্রেজেন্টেশন তৈরী (পাওয়ার পয়েন্ট)
  • বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার বেসিক ব্যবহার
  • যে কোন কিছু গুগলে সার্চ করার বিষয়ে পর্যাপ্ত ধারণা
  • স্কিন রেকর্ডিং করা
  • স্কাইপ ব্যবহার করা

এসব শেখার পর আপনি একজন অফিস সহকারী হিসেবে চাকুরী করতে পারেন। তার মানে আমরা জানতে পারলাম যে, একজন অফিস সহকারীর কাজ কি?

এসব কম্পিউটার দক্ষতা আপনার জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে।

আপনি যদি উপরের কাজগুলো ভালভাবে করতে পারেন তবে আশা করা যাচ্ছে কম্পিউটারের বেসিক কাজগুলো আপনি পারেন।

সুতরাং যে কোন চাকুরীর ক্ষেত্রে আপনি কিন্তু অন্যান্যদের তুলনায় অনেকটা এগিয়ে থাকবেন।

 

চাকরির জন্য কম্পিউটারের বেসিক

চাকরীর জন্য আপনাকে যে আলাদা করে অন্য বিষয় শিখতে হবে এমন নয়। আপনি উপরের বিষয়গুলো শিখতে পারলেই হবে।

তবে চাকরীর জন্য মূলত অফিসিয়াল প্যাকেজ সম্পর্কে ধারণা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান, ইমেইল আদান-প্রদানের বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান এবং অপারেটিং সিস্টেম হ্যান্ডল করা সম্পর্কে জানলে অনেকটা এগিয়ে থাকবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

তো বন্ধুরা আশা করছি, কম্পিউটার স্কিল কেন প্রয়োজন? এ বিষয়ে আপনার মনে আর কোন নতুন সংশয় থাকলো না।

কম্পিউটার অপারেটর হবার জন্য যে স্কিলগুলো আপনাকে এগিয়ে রাখবে।

অর্থাৎ আপনাকে কম্পিউটারের প্রাথমিক ধারণা সম্পর্কে মোটামুটি একটি ভাল ধারণা নিতে হবে।

 

আপনি কি কোন কম্পিউটার প্রশিক্ষন কেন্দ্র এর ঠিকানা দিতে পারেন? ভাই এরকম কোন ঠিকানা আপনি আপনার বাড়ি পাশেই পেতে পারেন,

কোন একটি প্রতিষ্ঠানে যান, তাদের রিভিউ চেক করেন, তাদের রিভিউ ভাল হলে আপনি অফিসিয়াল কোর্স করতে পারেন,

অফিস অ্যাপ্লিকেশন কোর্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুন,

কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন খুঁটিনাটি শিখুন

এর মাধ্যমে আপনি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সিলেবাস সম্পর্কে জানতে পারবেন।

 

তো বন্ধুরা আশা করছি,

কম্পিউটার শেখার উপকারিতা সম্পর্কে ভালভাবে বুঝতে পারছেন? আপনাদের যদি কোন বিষয়ে প্রশ্ন থাক তবে কমেন্ট করে অবশ্যই জানাতে ভুলবেন না!

আমরা আপনার মূল্যবান কমেন্টের প্রত্যাশায় আছি। 

তাহলে বন্ধুরা আজ এ পর্যন্তই। দেখা হবে পরবর্তীতে জীবন ও প্রযুক্তির নতুন কোন বিষয় নিয়ে। সে পর্যন্ত ভাল থাকেন, সুস্থ্য থাকেন।

আল্লাহ্ হাফেজ।

 

 

 

2 thoughts on “কম্পিউটার স্কিল কেন প্রয়োজন? যে স্কিল অর্জন না করলেই নয়!”

  1. I don’t even know how I ended up here, but I thought this post was great.
    I do not know who you are but definitely you are going to a famous
    blogger if you are not already 😉 Cheers!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *