joborfreelance

চাকরি নাকি ফ্রিল্যান্সিং, ক্যারিয়ার হিসেবে কোনটি পছন্দ করবেন?

প্রিয় বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই। আশা করছি মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ করুনায় ভাল আছেন। আজকে আমরা বর্তমান সময়ের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় চাকরি এবং ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে আলোচনা করবো। তাহলে পোস্টটি পড়ার পর আপনিই সিদ্ধান্ত নিবেন চাকরি নাকি ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে কোনটিকে প্রাধান্য দিবেন।

তাহলে চলুন প্যাচ প্যাচ না করে বরং মূল কথায় আসা যাক।

প্রথমত চাকরি কিংবা ফ্রিল্যান্সিং বিষয় দুটি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে পরিবর্তিত হয়। কিছুদিন আগেও মানুষ চাকরির জন্য এত বেশি উদগ্রীব ছিল না যতটা বর্তমান সময় তাদের চিন্তাগ্রস্থ করে ফেলে।

যদিও একদল মানুষের কাছে চাকরি খুবই প্রিয় একটি বিষয়। অপর কিছু মানুষ কেন জানি ব্যবস্যা ছাড়া কিছুই বোঝে না।

তাহলে ফ্রিল্যান্সিং এর পিছনে সময় ব্যয় করছেন তারা আসলে কোন গ্রুপের মধ্যে গণ্য হবেন?

সত্যিকার অর্থে,

 

চাকরির সুবিধা

  • এক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ছুটি পাওয়া যায় যা কাজের প্রতি মনোযোগ অনেকাংশই বাড়িয়ে তোলে
  • প্রতি মাসের নির্ধারিত তারিখে টাকা পাওয়া যায় এবং এক মোটে টাকা পাওয়ার কারণে সেটাকে কোন একটা নির্দিষ্ট কাজে লাগানো যায়।
  • চাকরিতে স্বাধীনতা নাই একথাটি কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হয়ে যায়। আসলে পার্ট টাইম জবের ক্ষেত্রে কিন্তু অনেকটা স্বাধীনতা পাওয়া যায়।

ফ্রিল্যান্সিং এর সুবিধা 

ফ্রিল্যান্সিং এর সুবিধা বোঝার আগে আমরা বরং ফ্রিল্যান্সিং আসলে কি তা বোঝার চেষ্টা করি। হয়তো বিষয়টি আরো ক্লিয়ার হয়ে যাবে।

Freelancing (ফ্রিল্যান্সিং) কি?

ফ্রিল্যান্সিং শব্দের অর্থ হল মুক্তপেশা। যে পেশাতে নাই কোন প্যাড়া, নাই কোন ঝামেলা, নিজের ইচ্ছেমত চলা যায় তাকে বলা হচ্ছে মুক্তপেশা।

অনলাইনে বিভিন্ন বায়ারের কাজ চুক্তিভিত্তিক নির্দিষ্ট ব্যালান্স এব সময় এর ভিত্তিতে করে দেয়া হলে তাকে ফ্রিল্যান্সিং বলা হয়ে থাকে।

অনেকেই এর মাধ্যমে অজস্র আয় করছে। আপনিও ফ্রিল্যান্সিং করে অনেক টাকা আয় করতে পারেন ।

কিন্তু কিভাবে?

তাহলে পড়ুন,

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে করবেন জানুন বিস্তারিত?

 

তাহলে চলুন এক নজরে দেখে নিই ফ্রিল্যান্সিং এর সুবিধা-

  • নিজের ইচ্ছেমত কাজ করা যায়।
  • ছুটি নেবার প্রয়োজন পড়ে না কেননা এখানে আপনি নিজেই নিজের বস।
  • অল্প সময়ে অধিক পরিমাণ অর্থ আয় করা সম্ভব।
  • বেশিরভাগ সময় পরিবারের সাথে কাটানো সম্ভব।
  • নিজের পছন্দমত একটি বিষয় ধরে কাজ করা সম্ভব।

 

চাকরি ও ফ্রিল্যান্সিং তফাৎটা কোথায়?

এখন এ দুই বিষয়ের মধ্যে কী কী ব্যবধান থাকতে পারে সে সব নিয়ে আলোচনা করা যাক।

প্রথমতো চাকরি বলতে ইচ্ছেমতো কাজ করা- চাকরি মানে সকাল নয় টা হতে সন্ধা পাঁচটা পর্যন্ত ব্যয় করা। একটু লেট করে অফিসে গেলেই বসের বোকা খাওয়ার আশা।

আর তারই ধারাবাহিকতায় মাস শেষে মাসের বেতন হতে বেতন কেটে ফেলা। তবে ভেবে দেখুন তো দেড়িটা জানজট বা অন্য কোন কারণেও হতে পারে, কি তাই তো?

যদি তাই হয় ইচ্ছে করে দেরী করলেন না। আবার কোন গুরুতর কারণে উপস্থিত হতে পারলেন না অফিসে।

পরেরদিন পৌছার পর যদি বিষয়টি জানান তবে তা অনেক ক্ষেত্রেই নাকচ করে দেয়া হয়। কেন মেধা আপনার, শ্রম ব্যয় করবেন আপনি, গভীর মনোযোগে কাজ করলেন অথচ কোন এক অনাকাঙ্খিত ভুলের দায় কেন আপনাকে নিতে হবে?

 

কেন আপনি চাকরি না করে ফ্রিল্যান্সিং করবেন? 

কেনই বা আপনি নিজেকে সেই ভুলের কাছে নত করে আপনার কষ্টার্জিত টাকাকে খোয়াবেন। আসল কথা হচ্ছে আপনি বসকে ভয় করেন।

আপনার মধ্যে কে ভয় প্রবেশ করাল? আপনি তো নিজে অনেক দক্ষ। নিজের মেধা আর শ্রমকে কিছু টাকার জন্য জলাঞ্জলি দিচ্ছেন।

তাহলে কেন? কেন রে ভাই আপার এমন অবস্থা বলতে পারেন? এর একটি কারণ বা ব্যাখ্যা তা হচ্ছে চাকরি করতেই হবে।

নতুবা শশুড়ের মেয়েকে এক গাদা টাকাসহ পাওয়া যাবে না 😛। আসলে চাকরি হচ্ছে অনেকটা নিজের খায়ে বনের মহিষ তাড়ানোর মত একটা বিষয়।

তবে বর্তমান সময় মানুষ একটি সরকারীর চাকরির যে কদর দিচ্ছে তাতে মনে হয় অদুর ভবিষ্যতে চাকুরি ছাড়া শশুড়ের মেয়েকে পাওয়ায় যাবে নাহ্😛।

অপরদিকে,

ফ্রিল্যান্সিং শব্দের শাব্দিক অর্থ  হচ্ছে মুক্তপেশা। বুঝতেই পারছেন যে এটাকে কোন ধরাবাধা নিয়ম নেই।

ফ্রিল্যান্সিং বলতে নিজের মতো করে খাওয়া ঘুমাতে পারা যায়। সময় করে শুধু বায়ারের কাজ বায়ারকে বুঝে দিতে পারলেই হলো।

অনলাইনে তাকালেই দেখা যায় ফ্রিল্যান্সিং করুন, ফ্রিল্যান্সিং শিখুন মাসে লক্ষাধিক আয় করুন। এমন অনেক বিষয় দেখা যায়।

এসব দেখে মনে হয় ফ্রিল্যান্সিং কোন এক ঠুনকো বিষয়। দেখলাম, শিখলাম আর অজস্র আয় করলাম।

আসলে বিষয়টা কিন্তু মোটেই এমন নয়। বাস্তব জীবনে আমাদের যেমন পরিশ্রম করতে হয় ঠিক তেমনি পরিমাণে পরিশ্রম করতে হয় অনলাইনে।

তবে একটা বিষয় সত্য যে একজন ভালমানের ফ্রিল্যান্সার সাধারণ চাকরিজীবীর চেয়ে কয়েকগুন বেশি আয় করতে পারে।

বিষয়টা একটু ক্লিয়ার করা যাক। ধরুন আপনার কোন এক বন্ধু একটি সরকারী চাকরি করে আর তার বেতন স্কেল হচ্ছে ১১,০০০ টাকা তো চিকিৎসা ভাতা, থাকা খরচসহ তার জন্য প্রতি মাসে বরাদ্দ থাকে ১৭০০০ টাকা।

এখন একজন ভালমানের ফ্রিল্যান্সার ১৭০০০ টাকা ১ দিনেই আয় করে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে তার থেকেও বেশি আয় হয়ে থাকে।

তাহলে এই যে ফ্রিল্যান্সার যা আয় করছে তার মাসিক আয় হিসেব করলে কয়েক লক্ষ টাকা হয়ে যায়।

যা দিয়ে ঐরকম ১৫-২০ জনের মজুরী দেয়া সম্ভব। তবে হ্যাঁ সরকারী চাকুরির ভ্যালুটা অনেক বেশি অনেকেই মনে করেন।

এখানে কখন কাজ করা হচ্ছে বা হচ্ছেনা তা নিয়ে চিন্তা করতে হয়না।

বাস্তবিক অর্থে কাজের দায়িত্ব কিন্তু চাকরিতে অনেকটা ব্যাপক। এই কাজগুলো আপনাকে অবশ্যেই সময় মতো করতে হবে।

এছাড়াও অন্যের কাজের খোজ রাখতে হয় যা অনেকের কাছে অসহনীয়।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের যে দায়ীত্ব থাকেনা তা একেবারে না কারন সেখানেও কাজের একটা দায়ীত্ব থেকে থাকে। তবে তা চাকরির চেয়ে সামান্য হলেও কম।

আর একানে শুধু নিজের কাজ করলেই চলে অন্য কারো কাজ দেখতে হয়না।

এখন চলুন জেনে নিবেন যে আসলে স্থায়ী আয়ের মাধ্যম আসলে কোনটি?

 

নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং (চাকরি নাকি ফ্রিল্যান্সিং)

যারা ফ্রিল্যান্সিং জগতে নতুন তাদের জন্য কিছু টিপস;

  • ধৈর্য হারা হবেন না। মনে রাখবেন অনলাইন সেক্টরের কিন্তু কোন সীমানা নেই।
  • লেগে থাকুন আজ অথবা কাল আপনি সফল হবেনই।
  • কিছু লোকের আজগুবি কথায় নিজেকে ভেঙ্গে ফেলবেন না।
  • আপনি যেহেতু ফ্রিল্যান্সিং জগতে নতুন। তাই আপনার উচিত হবে প্রচুর পরিমাণে রিসার্চ করা।
  • ততক্ষন পর্যন্ত চেষ্টা করুন যতক্ষন না আপনি সফল হচ্ছেন।
  • বিভিন্ন বাধা আসলে উপেক্ষা করুন। সামনে ভাল ভবিষ্যৎ যদি লেগে থাকতে পারেন।
  • বহু বিষয়ে পারদর্শিতা না দেখিয়ে অনলাইনে নির্দিষ্ট একটি-দুটি বিষয়ে ফোকাস করুন।
  • যখন ব্যর্থ হবেন, ইংরেজীর প্রবাদটা মনে করবেন, ফেইলিার ইজ দ্যা পিলার অফ সাকসেস্। সুতরাং আবার চেষ্টা করবেন।
  • গুগল, ইউটিউব এবং বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকুন। কিছু না পারলে এখানে গিয়ে খুঁজুন। পেয়ে যাবেন।

 

স্থায়ী উপাজর্নের মাধ্যম কোনটি চাকরি নাকি ফ্রিল্যান্সিং?

আসলে উপার্জন নির্ভর করবে আপনার শ্রমের উপর। আপনি কতটা পরিশ্রম করতে পারেন? কীভাবে আপনার চাকরিকে মেইনটেইন করছেন? কিভাবে উর্দ্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশে কাজ করছেন? উপর মহল আপনার প্রতি সন্তুষ্ট কি না তার উপর?

এটা চাকুরির ক্ষেত্রেই কিন্তু প্রযোজ্য। ফ্রিল্যান্সিং আসলে এমন কোন ব্যাপার না। এখানে আপনাকে বসের হিসেব কষতে হবে না।

কেননা,

এই মাধ্যমে আপনি নিজেই আপনার বস। আপনি যা সিদ্ধান্ত নিবেন তাই। যাই হউক আমাদের মূল কথায় ফিরে আসি।

কথা ছিল যে স্থায়ী উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে কোনটি বেশি ভাল হবে?  এ প্রশ্নের সোজা সাপটা উত্তর কিন্তু উপরের অংশেই দেয়া হয়ে গেছে।

কিভাবে?

স্থায়ী বলতে আমরা যেটা বুঝি যে আয় কখনই শেষ হবে না। ঠিক তাই তো? তাহলে বলায় চলে যে দুটি স্থায়ী আয়ের মাধ্যম হতে পারে।

চলুন জেনে নিই কিভাবে?

চাকরি করতে গেলেই যে আমাদের ৯-৫টা অবধি থাকতে হয় এই কথাটির একটু ব্যতিক্রম হয় যখন কেউ পার্ট টাইম চাকুরি করে।

তাহলে আপনি কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন?

চাকরি নাকি ফ্রিল্যান্সিং? ক্যারিয়ার হিসেবে কোনটি আপনার জন্য বেশ ভাল হবে?

আশা করি উপরের পর্যালোচনা ভালভাবে দেখলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন যে কোনটি আপনার জন্য সবথেকে ভাল হবে?

তারপরেও এখানে কিছু বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে,

ক্যারিয়ার হিসেবে চাকরি নাকি ফ্রিল্যান্সিং?

আমরা এতক্ষণ ধরে যা দেখেছি তা ছিল ফ্রিল্যান্সিং আর চাকরির কিছু সাদৃশ্য আর বৈসাদৃশ্য। আমি ধরে নিচ্ছি আপনি স্বাধীনতা পছন্দ করেন।

সেক্ষেত্রে আপনি কি করবেন? চাকরি করবেন? চাকরিতে কি আপনি নিজের স্বাধীনতা মত চলতে পারবেন?

অবশ্যই না। এখানে স্বাধীনভাবে চলা আপনার পক্ষে মোটেই সম্ভব হবে না। সুতরাং আপনাকে যা করতে হবে।

অবশ্যই এমন কোন সোর্স খুঁজতে হবে যেখানে আপনি পর্যাপ্ত স্বাধীনতা পাবেন। তাহলে এক্ষেত্রে আপনার জন্য ফ্রিল্যান্সিং অবশ্যই বেটার অপশন।

আবার,

আপনি যদি শশুড়ের ভাল একটি মেয়েকে চান সেক্ষেত্রে কিন্তু তারা আপনার লক্ষাধিক আয়ের পেশা ফ্রিল্যান্সিংকে বিন্দুমাত্র দাম দিবে বলে আমার মনে হচ্ছে না।

তাই এক্ষেত্রে আপনার উচিত হবে চাকরি অনুসন্ধান করা। তবে আমার দৃষ্টিকোন থেকে ক্যারিয়ার হিসেবে চাকরি যতটা ভাল বলে মনে হয় তার থেকে কয়েক গুন বেশি ভাল বলে মনে হয় ফ্রিল্যান্সিং।
আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খতিয়ে দেখুন,

আমরা কিন্তু ১৫-২০ বছর পড়াশুনার পর একটি ভালমানের চাকুরীর অনুসন্ধান করি। অনেকেই পেয়ে যায়।

আবার অনেকের কপালে এটা জোটে না। এক্ষেত্রে মন ভাঙ্গার কিছু নাই। কেননা সবাই তো চাকরি করার জন্য আসে নাই।

যারা ভাগ্যক্রমে চাকরি পেয়ে যায় তারা কিন্তু ২০-২৫ অথবা একটু বেশি বড়জোর ৭০-৮০ হাজার টাকার মত প্রতি মাসে আয় করে।

যেখানে একজন ফ্রিল্যান্সার প্রতি মাসে কয়েক লক্ষ টাকা আয় করে থাকে। সো ক্যারিয়ার হিসেবে “ফ্রিল্যান্সিং ইজ দ্য বেস্ট অপশন”

 

আপনি আরো পছন্দ করতে পারেন,

অনলাইন আয়ের সেরা কৌশল 

ডিজিটাল মার্কেটিং গাইডলাইন এবং প্রয়োজনীয় টুলস।

 

তো বন্ধুরা অনেক দেরি হয়ে গেছে। আজ আর নয়। দেখা হবে আগামীতে প্রযুক্তির নতুন কোন অধ্যায়ে।

সে পর্যন্ত ভাল থাকেন, সুস্থ্য থাকেন, শুভ কামনায় আজকের মত বিদায় নিচ্ছি।

আল্লাহ্ হাফেজ।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *