data-transmission-method

ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড কি? প্যারালাল এবং সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশন বিস্তারিত!

 

প্রিয় বন্ধুরা আজকে আমরা ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড নিয়ে আলোচনা করবো। তবে এটি বোঝার আগে ডেটা বলতে আসলে কি বোঝায় আমাদের জানা দরকার। তো চলুন জেনে নিই কি আসলে ডেটা? আর ডেটা ট্রান্সমিশন কি?

তাহলে চলুন জানবো যে, ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড ও এর প্রকারভেদ সম্পর্কে…

Data Transmission Method

ডেটা (Data)

ডেটা শব্দের অর্থ হচ্ছে উপাত্ত। কোন নির্দিষ্ট ধারণা বা উপস্থাপনাবলির একটি বিষয় যা দ্বারা ইলেকট্রনিক্স মেশিনের সাহায্যে যোগাযোগ বা প্রক্রিয়াকরণকে বোঝায়।

ডেটাকে আমরা মূলত বিভিন্ন উপায়ে প্রকাশ করে থাকি।

যেমন,

  • ডেটা বর্ণমালা (A-Z) দ্বারা প্রকাশ করা হয়ে থাকে।
  • কোন সংখ্যা (0-9) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। অথবা,
  • বিশেষ ক্যারেক্টার যেমন, (+), (-), (*), (/) (=), (<), (>) এর মাধ্যমে প্রকাশ করা যেতে পারে।

 

ডেটা ট্রান্সমিশন (Data Transmission)

ডেটা না হয় বুঝলাম, তাহলে ডেটা ট্রান্সমিশন বলতে কি বোঝায়? মানে ডেটা ট্রান্সমিশন আসলে কি? দাঁড়ান, অত তাড়াহুড়ো করার কি আছে? পড়তে থাকুন বুঝতে পারবেন।

যদি ডেটা কোন বর্ণমালা, কোন সংখ্যা কিংবা কোন বিশেষ ক্যারেক্টার হয়ে থাকে তবে সেগুলো এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে, এক কম্পিউটার অন্য কম্পিউটারে, এক মোবাইল থেকে অন্য মোবাইলে, মোবাইল থেকে কম্পিউটারে, কি-বোর্ড থেকে কম্পিউটারে, কম্পিউটার থেকে প্রিন্টারে স্থানান্তর করার প্রয়োজন হতে পারে।

এই যে ডেটা এক মাধ্যম থেকে অন্য একটি মাধ্যমে (মাধ্যমদ্বয় পরস্পর একই বৈশিষ্ট্যের হতে পারে) পরিবহন কিংবা স্থানান্তর করা হচ্ছে একে ডেটা ট্রান্সমিশন বলা হয়।

 

অপরদিকে,

ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড (Data Transmission Method)

আপনি কি বলতে পারেন, ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড কত প্রকার ও কি কি? যে উপায়ে এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ডেটা ট্রান্সমিট করা হচ্ছে সেই উপায়কেই মূলত ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড বলা হয়।

অর্থাৎ,

এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ডেটা ট্রান্সমিশনের মাধ্যমকে ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড বলে।

একটু বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি। আমরা যখন কি-বোর্ড দিয়ে কিছু লিখি তখন ডেটাগুলো সিপিইউ এ ট্রান্সমিট হয়। আমরা লিখি কি-বোর্ডে দেখি কিন্ত মনিটরে।

কম্পিউটার এই লেখাগুলোকে কিন্তু 0 আর 1 এ কনভার্ট করে আমাদের বোধগম্য ভাষায় উপস্থাপন করে। কারণ কম্পিউটার আমাদের ভাষাকে 0 এবং 1 ছাড়া অন্য কোন উপায়ে বুঝতে পারে না।

এই যে আমরা কি-বোর্ড থেকে তথ্য কম্পিউটারে দিচ্ছি এটি কিন্তু একটি নির্দিষ্ট মাধ্যম বেয়ে কম্পিউটারে যাচ্ছে। যে মাধ্যমকে অবলম্বন করে ডেটাগুলো কম্পিউটারে যাচ্ছে একেই আমরা ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড বলি।

প্রতিবার একসাথে কি পরিমাণ ডেটা ট্রান্সমিট করা যাবে তার উপর ভিত্তি করে ডেটা ট্রান্সমিশন মেথডকে আমরা দুই ভাগে ভাগ করতে পারি।

যথা,

  1. প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড (Parallel Data Transmission Method)
  2. সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড (Serial Data Transmission)

 

আমরা অ্যাসিনক্রোনাস ও সিনক্রোনাস (Synchronous Transmission) সম্পর্কে জেনে নিতে পারি, চলুন পড়তে থাকি…

আপনি আরো পছন্দ করে থাকবেন,

 

ব্লগিং এর জন্য প্রয়োজনীয় টুলস (পিক রিসাইজ টুলস)

প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড (Parallel Data Transmission Method)

Parallel শব্দের অর্থ হচ্ছে সমান্তরাল। তার মানে প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশন বলতে আমরা বুঝি সমান্তরালভাবে ডেটার স্থানান্তর।

অর্থাৎ, সমান্তরালভাবে ডেটা আদান-প্রদান হলে সেই ট্রান্সমিশনকে প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশন বলে। তাহলে, আমরা বলতে পারি,

উৎস থেকে গন্তব্যে সমান্তরালভাবে ডেটা ট্রান্সমিশন হলে সেই পদ্ধতিকে আমরা প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতি বলবো।

প্যারালাল পোর্ট ব্যবহার করে কম্পিউটার থেকে প্রিন্টারে ডেটা পাঠানো হলে তা প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশন হিসেবে পরিচিত।

এই ট্রান্সমিশনে একই সাথে ৮ বিট তথা ১ বাইট ডেটা ট্রান্সমিট হয়। প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে একই সাথে আটটি পৃথক চ্যানেলের মাধ্যমে ৮ বিট ডেটা ট্রান্সমিট করা যায় ।

প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে আমরা একটি ক্যাবলের ৮ টি পৃথক চ্যানেলের মাধ্যমে ডেটা ট্রান্সমিশন দেখে থাকি।

প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশনের সুবিধাঃ

  • একই সাথে ৮ বিট ডেটা ট্রান্সমিট করা সম্ভব।
  • কাছাকাছি দূরত্বে ডেটা ট্রান্সমিট করার জন্য অনেক ভাল একটি উপায়।
  • ৮ বিট, ১৬ বিট, ৩২ বিট এভাবে ডেটা ট্রান্সমিট করা সম্ভব।
  • দ্রুত গতি সম্পন্ন ডেটা ট্রান্সমিশন মাধ্যম।

 

এটি তুলনামূলক ধীরগতি সম্পন্ন মাধ্যম হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত।

 

প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশনের অ-সুবিধাঃ

  • ৮ টি পৃথক চ্যানেলের মাধ্যমে ডেটা ট্রান্সমিট করতে হয়।
  • দূরবর্তী কোন স্থানে ডেটা পাঠানোর ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা অনেক ব্যয়বহুল।

 

সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশন (Serial Data Transmission)

Serial শব্দের অর্থ হচ্ছে অনুক্রমিক। তার মানে সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশন বলতে আমরা বুঝি অনুক্রমিকভাবে ডেটার স্থানান্তর।

অর্থাৎ, অনুক্রমিক ডেটা আদান-প্রদান হলে সেই ট্রান্সমিশনকে অনুক্রমিক ডেটা ট্রান্সমিশন বলে। তাহলে, আমরা বলতে পারি,

উৎস থেকে গন্তব্যে অনুক্রমিকভাবে ডেটা ট্রান্সমিশন হলে সেই পদ্ধতিকে আমরা অনুক্রমিক ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতি বলবো।

কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে ডেটা ট্রান্সমিশন করতে হলে সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশন ব্যবহার করা হয়।

অর্থাৎ আমরা যখন একটি কম্পিউটার থেকে কোন গুরুত্বপূর্ণ ডেটা অন্য একটি কম্পিউটারে ট্রান্সমিশন করে থাকি তখন সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশনের দিকে নজর দিতে হয়।

যেমন, ধরুন আপনি গুগলকে ব্যবহার করে জি-মেইল এর মাধ্যমে কোন তথ্য অন্য একটি ডিভাইস তথা কম্পিউটারে পাঠাবেন তখন কোন পদ্ধতি অবলম্বন করবেন?

নিশ্চয় ডেটা ট্রান্সমিশন??

তাহলে বুঝতে পারছেন কি যে, সিনক্রোনাস ডেটা ট্রান্সমিশন কি? মদ্দা কথা, প্রেরক কম্পিউটার থেকে ডেটা ব্লক আকারে প্রাপক কম্পিউটারে গেলে তাকেই সিনক্রোনাস পদ্ধতি বলা হয়।

আমরা কি বলতে পারি যে, ডেটা ট্রান্সমিশনে সিনক্রোনাস সুবিধাজনক তাহলে কিভাবে চলুন ব্যাখ্যা করা যাক,

অনুক্রমিক ডেটা ট্রান্সমিশনের সুবিধাঃ

  • বিট সিনক্রোনাইজেশনের জন্য স্টার্ট বিট এবং স্টপ বিট ব্যবহার করা হয়।
  • ৮ টি পৃথক চ্যানেলের প্রয়োজন নেই।
  • অনেক দূরবর্তী স্থানে ডেটা ট্রান্সমিশনের জন্য সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
  • ধীর গতির ডেটা ট্রান্সমিশন মাধ্যম।

 

সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে আমরা প্রতিটি আলাদা ক্যাবলের মাধ্যমে ডেটা ট্রান্সমিশন দেখে থাকি।

 

সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশনের অ-সুবিধাঃ

  • স্টার্ট বিট এবং স্টপ বিট নামক দুটি বাড়তি বিটের প্রয়োজন হয়।
  • কাছাকাছি দূরত্বে ডেটা ট্রান্সমিশনে সমস্যা হয়ে থাকে।

 

Data Transmission Method in Bangla

 

এটি তুলনামূলক দ্রুত গতি সম্পন্ন ডেটা ট্রান্সমিশন মাধ্যম হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত।

 

তার মানে আমরা সংক্ষেপে বলতে পারি,

প্যারালাল ডেটা ট্রান্সমিশন সিরিয়াল ডেটা ট্রান্সমিশন
সমান্তরালভাবে ডেটা স্থানান্তরিত হয় অনুক্রমিক/ধারাবাহিকভাবে ডেটা ট্রান্সমিশন হয়ে থাকে।
৮ টি পৃথক চ্যানেলের মাধ্যমে ৮ বিট ডেটা স্থানান্তরিত হয়ে থাকে। ৮ টি পৃথক চ্যানেলের কোন দরকার হয় না।
স্টার্ট বিট, স্টপ বিট কিংবা প্যারিটি বিটের কোন দরকার নাই। স্টার্ট বিট, স্টপ বিট কিংবা প্যারিটি বিটের দরকার হয়।
কাছাকাছি ডেটা ট্রান্সমিশনের জন্য সুবিধাজনক পদ্ধতি দূরবর্তী স্থানে ডেটা ট্রান্সমিশনের জন্য সুবিধাজনক পদ্ধতি।
তুলনামূলক ব্যয়বহুল তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল
ধীর গতি সম্পন্ন মাধ্যম দ্রুত গতি সম্পন্ন মাধ্যম

 

তাহলে বলুন তো, ডেটা ট্রান্সমিশন ডিলে সর্বনিম্ন হয় কোন পদ্ধতিতে? নিশ্চয় Parallel Data Transmission এ।

উভয়ের মাঝে আমরা ডেটা ট্রান্সমিশন দক্ষতা দেখে থাকি, প্রকৃত ডেটাকে মোট ডেটা দিয়ে ভাগ করে তার শতকরা পরিমাণ হচ্ছে, Data Transmission দক্ষতা ।

 

রিকমেন্ডেড পোস্ট,

API কি? উদাহরণসহ এপিআই এর প্রয়োজনীয়তা

 

আমার বিশ্বাস ডেটা ট্রান্সমিশন মেথড নিয়ে আপনার মনে কোন সংশয় রইল না। শুধু ডেটা ট্রান্সমিশনই নয় বিশ্বের মজার মজার সব বিজ্ঞান ও তথ্য আর জীবন নিয়ে কাহিনী পড়তে থাকুন নিত্যটিউনের সাথে।

তো বন্ধুরা আজ এ পর্যন্তই থাক। পরবর্তীতে আমরা দেখবো ডেটা ট্রান্সমিশনের মোডগুলো কি কি হতে পারে। আশা করবো নিত্য টিউনের সাথেই থাকবেন।

আপনাদের দীর্ঘায়ু কামনা করে আজকের মত বিদায় নিচ্ছি।

আল্লাহ্ হাফেজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *